

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নরসিংদীর রায়পুরায় তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর ওয়ালিদ হাসান (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনার পেছনে প্রেমঘটিত বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার চাঁন্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর মধ্যপাড়া গ্রামের জাকির মিয়ার বাড়ি থেকে ওয়ালিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ওয়ালিদ হাসান ওই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, ওয়ালিদকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মরদেহ বাড়ির উঠানে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে মরদেহ কাপড়ে মুড়িয়ে গুমের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী তিন নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের গলায় কালো দাগের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গলায় বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে বাহেরচর মধ্যপাড়া গ্রামের জাকির মিয়া, তার স্ত্রী ফরিদা আক্তার এবং দুই মেয়ে মিন্নি ও প্রাণার নাম উঠে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জাকির মিয়ার মেয়ে প্রাণা আক্তারের (১৭) সঙ্গে ওয়ালিদ হাসানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত তিনদিন ধরে নিখোঁজ ছিল ওয়ালিদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই জাকির মিয়ার পরিবারের সদস্যদের হাতে তিনি হত্যার শিকার হন।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জাকির মিয়া পলাতক রয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেমিকা প্রাণা আক্তার (১৭), তার মা ফরিদা আক্তারসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রায়পুরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান জানান, খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।