

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়ার পর স্ত্রীকে তালাক দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের পুরাতন কোলা গ্রামে এই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুরাতন কোলা গ্রামের প্রয়াত পীর বক্সের মেয়ে রীনা খাতুনের (২২) সঙ্গে নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। এ খবর জানার পর থেকেই স্বামীর পরিবারের আচরণ বদলে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রীনার দাবি, গর্ভে কন্যাসন্তান রয়েছে এ কথা জানার পর থেকেই তাকে নানা ধরনের মানসিক চাপ দেয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই নির্যাতন শারীরিক পর্যায়েও পৌঁছায়। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে যান। পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে শিশু দুটির বয়স প্রায় ছয় মাস। কিন্তু জন্মের পর থেকে একবারের জন্যও তাদের খোঁজ নেয়নি স্বামীর পরিবার। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এমনকি থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও ফল পাননি বলে অভিযোগ রীনার। এরই মধ্যে কয়েক দিন আগে ডাকযোগে স্বামী রাকিবুল ইসলামের পাঠানো তালাকনামা হাতে পান তিনি।
ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে রীনা খাতুন বলেন, ‘কন্যাসন্তান হওয়ায় আমার কী দোষ? মেয়েসন্তান জন্ম দিয়েছি বলে আমাকে অপমান ও নির্যাতন করা হয়েছে। পরে যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে শেষ পর্যন্ত তালাক দেয়া হলো। আমার দুই শিশুর জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকার খাবার কিনতে হয়। বাবা নেই, বিধবা মায়ের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা খুবই কষ্টকর। আমাকে না দেখুক, অন্তত নিজের সন্তানদের দায়িত্ব তো নেয়া উচিত।’ এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি আমার নজরে এসেছে। শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে আমি প্রথম রীনার কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছিলাম। পরে তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলে তিনি তা জমা দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
