

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ৩০টি অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলো এখন এলাকাবাসীর জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ঝরছে একের পর এক তাজা প্রাণ।
সরিষাবাড়ী রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, এই রেলপথ দিয়ে যমুনা, অগ্নিবীণা ও জামালপুর এক্সপ্রেস নামের তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন ও ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস (বর্তমানে সাময়িক বন্ধ), ৩৭ আপ ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস ও চট্রগ্রাম মেইল ৩৮ ডাউন নামে ৩টি লোকাল ট্রেনসহ মোট ৫টি ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। উপজেলার রেলপথে ছোট-বড় প্রায় ৪০টির মতো ক্রসিং রয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ৯টিতে গেটম্যান নিয়োজিত আছে। বাকি ৩০টি ক্রসিং সম্পূর্ণ অরক্ষিত। এছাড়া রেল কর্তৃপক্ষের অগোচরে আরও অনেকগুলো ছোট ছোট অবৈধ লেভেল ক্রসিং তৈরি হয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
উপজেলার তারাকান্দি রেলস্টেশন সংলগ্ন এ উপজেলার সবচেয়ে বড় ৪ ডাবল লাইনের রেলক্রসিংটিতে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, পথচারী থেকে শুরু করে অটো-ভ্যান, ব্যাটারিচালিত রিক্সা, নছিমন ও প্রাইভেটকারসহ নানা যানবাহন কোনো প্রকার সতর্কতা ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে। রেলক্রসিংয়ের দুই পাশে বাড়িঘর, দোকানপাট ও গাছপালা থাকায় ট্রেন আসার আগ মুহূর্তে তা দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয় আকবর হোসেন, মনির উদ্দিনসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, রেলস্টেশনের সাথেই একটি সরকারী প্রাথমিক ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। ফলে স্কুলের শিক্ষার্থীরা রেল লাইনের পাশেই খেলাধুলা করে। এ এলাকার শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের চলাচলের প্রধান পথ এটি। এছাড়াও সরিষাবাড়ী উপজেলার সবচেয়ে বড় রেলক্রসিং এটি। বড় হলেও এখানে কোন গেইটম্যান নেই। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
উপজেলার সাতপোয়া এলাকার জামতলা মোড়ে অরক্ষিত রেলক্রসিং থাকায় সম্প্রতি ট্রেনের ধাক্কায় ৪ বছরের শিশুকন্যাকে হারিয়েছেন বয়ড়া ইসরাইল আহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউনুছ আলী। শোকার্ত এই পিতা বলেন, "ক্রসিংয়ে গেটম্যান থাকলে আজ আমার মেয়েটি বেঁচে থাকত। আর কত প্রাণ গেলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে? আমি চাই না আমার মতো আর কোনো পরিবারের এভাবে বুক খালি হোক। এখানে গেটম্যান দেয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে।
কান্দারপাড়া বাসস্টেশন এলাকার রাজু আহাম্মেদ, লিমন মিয়াসহ একাধিক স্থানীয়রা বলেন, এই বাস-স্টেশন এলাকায় ৩ টি অরক্ষিত রেলক্রসিং রয়েছে। প্রতিদিন এসব রাস্তা দিয়ে শত শত মানুষ চলাচল করে। ঢাকা সহ বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার জন্য এই রেলক্রসিং দিয়েই পারাপার হয়। তাই এখানে গেটম্যান ও ক্রসিং দেয়াটা জরুরী। অবিলম্বে সব অরক্ষিত ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগের জোর দাবিও জানান তারা।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, "তারাকান্দি স্টেশন সংলগ্ন অরক্ষিত রেলক্রসিংটিতে গেট নির্মাণ ও গেটম্যান নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। মূলত গেট নির্মাণের বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়, এ বিষয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল সাইনবোর্ড লাগিয়ে দায় সারা নয়, বরং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও গেটম্যান নিয়োগের মাধ্যমেই সরিষাবাড়ীর মানুষকে এই মরণফাঁদ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব।