

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে খালার বাড়ি থেকে ফেরার পথে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে (১৩) সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে তুলে নিয়ে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অটোরিকশাচালকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের মোল্লা বাড়ির জয়নাল আহম্মদের ছেলে অটোরিকশাচালক রিয়াজ মোল্লা (২১) এবং অষ্টগ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ফয়েজ আহমেদ (২৬)। এ ঘটনার সঙ্গে আকরাম নামের আরেক যুবক জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে নাঙ্গলকোট উপজেলার শুভপুর গ্রামে খালার বাড়ি থেকে সাতবাড়িয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশায় ওঠে ওই শিক্ষার্থী। পথিমধ্যে বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের বোড়রা গ্রামে পৌঁছালে অটোরিকশাটি নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানায় চালক রিয়াজ মোল্লা। পরে সে কৌশলে ওই কিশোরীকে অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে দেয়।
কিছুদূর যাওয়ার পর 'জাকিরের ট্যাক' নামক স্থানে পৌঁছালে চালক রিয়াজ তার বন্ধু পরিচয় দিয়ে ফয়েজ আহমেদকে অটোরিকশায় তোলে। এরপর কিশোরীকে ফেনীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চৌদ্দগ্রামের পদ্ময়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাতে থাকে। রাত গভীর হলে তারা তেতৈয়া গ্রামের জাফরের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায় কিশোরীকে। সেখানে ফয়েজ আহমদ, রিয়াজ মোল্লা ও আকরাম মিলে তাকে রাতভর গণধর্ষণ করে।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে কিশোরীর জবানবন্দি নেয় এবং তাকে ফেনীতে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়। পরে কিশোরী বিস্তারিত জানালে তার মা আজ বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে এসে ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের সহায়তা চান। এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে প্রেরণ করেছে।
ওসি আরও জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে ভিকটিমের ডিএনএ ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। মামলার প্রধান সহযোগী ও পলাতক আসামি আকরামকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।