

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টার ঘটনায় দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
ফলে নারী ও শিশুসহ ২৮ জন মানুষ খোলা আকাশের নিচে সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিজিবির উদ্যোগে দুই দফায় সীমান্তে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ জানায়, তারা বিষয়টি তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ২৮ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের নো-ম্যান্সল্যান্ড বা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সীমান্তে আটকে থাকা মানুষগুলোর দুর্ভোগ চোখে পড়ছে। দিনভর প্রচণ্ড রোদ আর বিকেলে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও নারী ও শিশুরা কোনো ধরনের আশ্রয় ছাড়াই অবস্থান করছে।
তাদের কাছে নেই পর্যাপ্ত খাবার কিংবা বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষার কোনো ব্যবস্থা। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ছোট ছোট শিশুরা ক্ষুধা ও ক্লান্তিতে কান্নাকাটি করছে। দীর্ঘ সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে থাকায় তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত মানবিক সমাধানের দাবি জানান তিনি।
বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শারিকুল ইসলাম সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর থেকেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
পতাকা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ওই ২৮ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ জন শিশু রয়েছে। বিজিবির বাধার কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।
তিনি আরও বলেন, বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তের কিছু অংশকে সহজ প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বিএসএফ। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে। মানবিক সংকট নিরসনে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।