

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কারাগারে থাকার সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গান শোনাতেন সংগীতশিল্পী ও মানিকগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। জামিনে কারামুক্তির পর বাড়িতে পৌঁছে জেলজীবনের বিভিন্ন কথা প্রসঙ্গে এ কথা জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন তার স্কুল জীবনের বন্ধুরা। তাদের সঙ্গে গল্পের সময় তিনি জানান, কারাগারে প্রায়ই তাকে গান শোনাতেন মমতাজ। অবসর সময়ে জেলে গানের আসর বসত। সেখানে মূল শিল্পী মমতাজ। তবে একটি গানে ‘আমার ভাইয়েরে কইও নাইওর আনতো গিয়া’ এমন লাইন থাকায় আইভী তাকে এ গান গাইতে নিষেধ করেন।
তিনি মমতাজকে বলেন, তিনি যেদিন জেল থেকে বের হবেন সেদিন এই গান গাইলে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ তিনি সেদিন বাসায় গিয়ে তার দুঃখ ভাগাভাগি করতে পারবেন। কারণ এই গান শুনলে তার সদ্য প্রয়াত ভাই আহমদ আলী রেজা রিপনের কথা মনে পড়ে যায়।
মুক্তি পাওয়ার দিন বিকেলে গানের আড্ডায় মমতাজ এ গান গেয়েছেন। তখনও তিনি জানতেন না মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল ৫৫ বছর বয়সে তার ভাই হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। প্রায় ১ মাস পর ২০২৫ সালের ৯ মে পুলিশ আইভীকে গ্রেপ্তার করে। রিপনের স্ত্রী এর চার বছর আগে মারা যায়। তাদের ৩ সন্তান আইভীর কাছেই থাকেন।
জামিনে মুক্তি পেয়ে বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় নিজ বাড়িতে পৌঁছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর আত্মীয়স্বজন আর শুভানুধ্যায়ীরা একে একে দেখা করতে আসছেন। ফোনের পর ফোন আসছে। ফোনে কথা বলতে বলতে আর স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতে রাতে আর ঘুমাতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় সাংবাদিক আর দেখা করতে আসা নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় এমনটাই জানান সদ্য কারামুক্ত ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। ছোট ভাই আহম্মদ আলী রেজা রিপনের মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আইভী। সে কথা মনে করে বেশ কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে যান তিনি।
বিকেল সাড়ে ৪টায় তার বাসায় আসেন সাবেক নারী কাউন্সিলর মিনুয়ারা বেগম, শাওন অংকন, সাদিয়া সাউদ, সাবেক কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা অলিউর রহমান। তাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে ভাইয়ের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন আইভী।
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরক আইনে ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদিকে সাবেক এই মেয়রের বাসার সামনে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে জেলা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জে তার বাসায় যাওয়ার আগ মুহূর্তে বাড়ির গেটের সামনের ল্যাম্পপোস্টে এই সিসি ক্যামেরা বসানো হয়।
এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, এ সিসি ক্যামেরা শুধু সাবেক মেয়রের বাড়িকে কেন্দ্র করে লাগানো হয়নি। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সাবেক মেয়রের বাসার সামনেও সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এলাকায় মোট চারটি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাবেক মেয়রের সঙ্গে মানুষজন দেখা করতে আসতে পারবে। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করছেন কিনা, রাজনৈতিক সভা করছেন কিনা, এটি পুলিশ নজরদারি করবে। তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই মামলায় ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল দিয়ে আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এ জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। ১৭ মে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দেন।
এর আগে গত ১০ মে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হত্যাসহ পৃথক ১০ মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ১২ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনেও মেয়র পদে জয়ী হন তিনি।
