

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরগুনার আমতলী উপজেলায় নবনির্মিত একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় আমতলী পৌর শহরের একে স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার হলদিয়া গ্রামের আজিজ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল হাওলাদার (৩৫) এবং বেতমোর গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে জাফর হাওলাদার (৫০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. ইউসুফ আলীর নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে সকালে শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন। প্রথমে জাহিদুল হাওলাদার ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি চিৎকার করতে থাকেন। তাকে উদ্ধার করতে জাফর হাওলাদার নিচে নামলে তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় বিষাক্ত গ্যাস নিষ্ক্রিয় করে ট্যাংকের মুখ ভেঙে দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মশিউর রহমান জানান, জাহিদুল ট্যাংকের ভেতরে নামার পরপরই চিৎকার শুরু করেন। তাকে বাঁচাতে জাফর নিচে নামলেও তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
নিহত জাফর হাওলাদারের ভগ্নিপতি রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, ভবন মালিকের অসচেতনতা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আবু হানিফ বলেন, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এমন স্থানে প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্ধার অভিযানে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।