

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শখের বশে আঙুর লাগিয়েছিলেন এক কলেজ শিক্ষক। সময় গড়ানোর সাথে সাথে সেই শখই এখন পরিণত হয়েছে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পে। বাগানের মাচায় ভিন্ন জাত ও ভিন্ন রঙের থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা আঙুর নজর কাড়ছে সবার। আঙুরের এমন ফলন ব্যাপক কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে।
সফল ওই শিক্ষকের নাম মো. এমদাদুল হক রাজা এবং বাড়ি উপজেলা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরের এক প্রত্যন্ত গ্রাম পূর্ব বাছহাটি। শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষির প্রতি মমত্ববোধই একসময় তাকে পরিচয় করিয়ে দেয় কুড়িগ্রামের রুহুল আমিন নামের এক ব্যাংকারের সাথে। এই পরিচয়ই তাকে আগ্রহী করে তোলে আঙ্গুরচাষে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার ধারে থাকা মাত্র ৭ শতক জমিতে বাইকুনুর, একোলো, গ্রীণ লং, জয় সীডলেস, ডিকসন, ভ্যালেজ, ট্রান্সফিগারেশন, অ্যাকাডেমিক, লোরাস, ক্রীসমন সীডলেস, মানিক চমন, এসএসএন, রেবেকা, জেসমিনসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৫০টি আঙুর গাছ লাগিয়েছেন কৃষি বিষয়ের শিক্ষক রাজা। নাম দিয়েছেন 'কৃষিবিদ আঙুর বাগান।' ৪ বছর আগে ধাপে-ধাপে এসব জাতের চারা রোপণ করা হলেও বাইকুনুর, গ্রীণ লং, ভ্যালেজ এবং প্রেসটিজ নামক আঙুরের গাছে ফল ধরা শুরু হয়েছে গত বছর থেকে। বাগানের ওপর ও চারপাশে দেওয়া হয়েছে জালের আচ্ছাদন।
বাগানে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ছে মাচার নিচে ঝুলে থাকা থোকায় থোকায় আঙুর। হালকা সবুজ, হালকা গোলাপী ও জাম রঙের এসব আঙুরের থোকা নজর কাড়বে যে কারো। একেকটি থোকায় আঙুর ধরেছে ৪০০-১০০০ গ্রাম পর্যন্ত। আর প্রতিটি গাছে উৎপাদন হবে প্রায় ১০-১৫ কেজি। বাজারে পাওয়া আঙুরের চেয়েও তার উৎপাদিত আঙুর স্বাদ ও গুণগত মানে অনন্য হওয়ায় এর চাহিদাও বেশ।
রাস্তার ধারে হওয়ায় বিভিন্ন এলাকার সৌখিন মানুষেরা আসছেন রাজার এই বাগান দেখতে। পরখ করে দেখছেন তারা আঙুরের স্বাদ ও গুণগত মান।
তারা বলছেন, আমাদের এলাকাতেও যে আঙুরের চাষ করা সম্ভব তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারতাম না। তাছাড়া এসব আঙুর তো দেখছি, বাজারের আঙুরের চেয়েও মিষ্টি ও সুস্বাদু!
উদ্যোক্তা এমদাদুল হক রাজা বলেন, কৃষি নিয়ে পড়াশোনা করায় কৃষির প্রতি আমার ঝোঁক একটু বেশি। বিশেষত আঙুর চাষের প্রতি। ৩-৪ বছরের চেষ্টায় এখন আমি অনেকটা সফল। ২৬ ধরনের আঙুরের চারা লাগিয়েছি। তারমধ্যে রাশিয়ান জাতের বাইকুনুর, গ্রীণ লং, ভ্যালেজ এবং প্রেসটিজ নামক আঙুরের গাছে ফল ধরা শুরু হয়েছে গত বছর থেকে। এবছরে ফলন আরো ভালো। একটি গাছ অন্তত ২০-৩০ বছর ফল দেবে। বাজারের আঙুরের চেয়ে এর স্বাদ খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু। এর কারণ আমি চাষে জৈব সারের প্রতি জোর দিয়েছি। অন্যান্য জাতগুলোর গাছ ছোট হওয়ায় আশাকরি আগামী বছর সেগুরো ফল দেবে। এবছরে অন্তত আড়াই-তিন মণ আঙুর আসবে। প্রতি কেজির দাম ৩০০টাকা।
তিনি আরো বলেন, বেলে-দোআঁশ মাটি আঙুর চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এজন্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করতে আমি আরো চারা উৎপাদন করছি। কেউ উদ্যোক্তা হতে চাইলে আমি সহযোগিতা করব। এতে পরিবারের চাহিদা মেটনোর পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হতে পারবেন উদ্যোক্তারা।
তরুণ উদ্যোক্তা রাজার আঙুরের বাগান পরিদর্শন করে এসেছেন জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন,"তার বাগানে লাগানো ২২ জাতের আঙুরের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ জাতের আঙুর গাছে ফল ধরেছে। আঙুরগুলো খুবই সুমিষ্ট। এ এলাকার মাটি আঙুর চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কেউ উদ্যোক্তা হতে চাইলে কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা করা হবে। এজন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।