

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার। ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা শেষ করে ভালো একটি চাকরি করে পরিবারের হাল ধরবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মরণব্যাধি ক্যানসারের থাবায় সেই স্বপ্ন এখন হাসপাতালের করিডোর আর ঘরের বিছানায় বন্দি।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর মিঠাখালী গ্রামের স্বপ্নবাজ তরুণ রেজাউল করিমের বাঁচার আকুতি এখন কেবলই বোবা কান্না। ক্যানসারের সাথে লড়াই করতে করতে তিনি আজ প্রায় বাকরুদ্ধ। কিছু বলতে চাইলেও কষ্টে আটকে আসে কথা।
মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্র রেজাউলের দিন কাটছে এখন মৃত্যুর প্রহর গুনে। তার বাবা সেলিম হাওলাদার ছিলেন একজন ক্ষুদ্র চা দোকানি। একমাত্র ছেলের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে সেই দোকানটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। মা এমিলি বেগম একজন সাধারণ গৃহিণী। ছেলের শরীরের টিউমার যখন ক্যানসারে রূপ নিল, তখন থেকেই শুরু হলো এই দরিদ্র বাবা-মায়ের অন্তহীন যুদ্ধ। ছেলের জীবন বাঁচাতে গিয়ে ভিটেমাটি ছাড়া আজ সব হারিয়ে নিঃস্ব এই পরিবারটি।
জানা গেছে, রেজাউল মরণব্যাধি ‘B-cell non-Hodgkin lymphoma’-তে আক্রান্ত। বর্তমানে মহাখালী ক্যানসার হাসপাতাল থেকে তাকে একটি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রেজাউলকে বাঁচাতে হলে দ্রুত তিনটি হাই-ডোজ কেমোথেরাপির পর ‘বোন মেরু ট্রান্সপ্লান্ট’ করাতে হবে। এই উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে দেশের বাইরে, বিশেষ করে চীনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আগামী ১৮ তারিখ থেকেই শুরু হওয়ার কথা তার এই শেষ পর্যায়ের চিকিৎসা। কিন্তু বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়। এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। ইতোমধ্যে সহায়-সম্বল বিক্রি করে পরিবারটি ৩ লক্ষ টাকার দেনার জালে জড়িয়েছে।
রেজাউলের বেদনাহত চোখগুলো যেন নির্বাক ভাষায় বলছে, ‘আমি বাঁচতে চাই’। ছেলের শয্যাপাশে বসে মা এমিলি বেগমের আর্তনাদ, ‘আমার ছেলে না বাঁচলে আমিও বাঁচব না।’