

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে নির্মাণাধীন ‘বাণী ভবন’ ও ‘হাবিবুর রহমান হল’-এর কাজ ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বাণী ভবনের বেজমেন্টের কাজ ৮ মাসেও শেষ হয়নি। অন্যদিকে হাবিবুর রহমান হলের নির্মাণকাজ প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম নির্মাণ সাইটের দায়িত্ব সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীন ২৫ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইফতেখার আলমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপন: ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
হস্তান্তরের সময় লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইফতেখার আলম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে নির্মাণকাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব একটা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা বাড়াতে ৬ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কাজের বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাণী ভবনের বেজমেন্ট অংশে এখনো নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। উপরের কাঠামোগত কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব একটা দেখা যায়নি। কোনোদিন মাত্র ৫ জন, আবার কোনোদিন ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। কাজের মাত্রা বুঝে শ্রমিক নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অপরদিকে হাবিবুর রহমান হলের সামান্য কিছু অংশে বেজমেন্টের কাজ সম্পন্ন হলেও অধিকাংশ জায়গায় এখনো কাজ শুরুই হয়নি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়মিত কাজ পরিদর্শনেও দেখা যায় না। মাঝে মধ্যে সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য এলেও কাজের তেমন অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি হল নির্মাণে নিয়োজিতনিরাপত্তাকর্মীকেও গত দুই মাস ধরে বেতন দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটে ভুগছি। নতুন হল নির্মাণের ঘোষণা শুনে আশা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু কাজের বর্তমান গতি দেখে মনে হচ্ছে নির্ধারিত সময়েও শেষ হবে না।”
১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, “বাণী ভবনের কাজ এখনো বেজমেন্টেই আটকে আছে। এত ধীরগতিতে কাজ চললে শিক্ষার্থীরা কবে হলে উঠতে পারবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।”
১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, “হাবিবুর রহমান হলের কাজ প্রায় বন্ধ। মাঝে মধ্যে লোকজন এলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রশাসনের আরও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।”
একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, “৬ তলা ভবনের কাজ শেষ করতে হাতে খুব বেশি সময় নেই। অথচ এখনো বেজমেন্টের কাজই চলমান। কাজের গতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।”
জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আমরা বাণী ভবনের কাজের ধীরগতি দেখেছি এবং হাবিবুর রহমান হলে ঈদুল ফিতরের পরবর্তী সময় থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে পিডিকে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি, যারা দ্রুত সময়ের মধ্যে হলের নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “হাবিবুর রহমান হল এবং বাণী ভবনের কার্যক্রম সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”
উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “হাবিবুর রহমান হল ও বাণী ভবনের নির্মাণাধীন কার্যক্রম নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। হাবিবুর রহমান হলের কাজ বন্ধের বিষয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অভিযোগ দেখান সেনাবাহিনী। তবে আমরা তাদের বলেছি এখন আর জ্বালানি সংকট নেই তাহলে কেন বন্ধ করে আছে? তখন সেনাবাহিনী বলেছে এ বিষয়ে দ্রুত সমাধান করা হবে। বিষয়টি আমি উপাচার্যকে জানিয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, “অপরদিকে বাণী ভবনে সামান্য কিছু শ্রমিক কাজ করছে এটা নিয়ে আরও বেশি উদ্বিগ্ন। এখন যেহেতু বর্ষা মৌসুম সেহেতু নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হবে না বলে শঙ্কা রয়েছে। আমরা সেনাবাহিনীকে বলছি তারা যেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে বসে দ্রুত বিষয়টা সমাধান করে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন বলেন, “হাবিবুর রহমান হলের কাজ করছে সেনাবাহিনী। এ বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা কাজ চলছে বলে জানিয়েছে। তারপরেও গত ১০ তারিখে আমি সেনাবাহিনীর পিডিসহ অন্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে কাজের গতি বাড়াতে অনুরোধ করেছি।”
তবে বাণী ভবনের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।