

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের একটি পাম্পে ড্রামে করে জ্বালানি তেল বিক্রির সময় ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিকের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে পাম্প মালিকের ভাতিজার বিরুদ্ধে। এসময় ওই সাংবাদিককে বাঁচাতে এলে আরেক সাংবাদিককেও লাঞ্চিত করা হয়।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ওই ভুক্তভোগী সাংবাদিক। এর আগে সকালে উপজেলার কাশিমপুর এলাকার মেসার্স ফারিয়া ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার ওই সাংবাদিকের নাম জাহিদ হাসান টিপু। তিনি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার ভেদরগঞ্জ সংবাদদাতা। লাঞ্চিত আরেক সাংবাদিকের নাম আশিকুর রহমান হৃদয়। তিনি দৈনিক সমকালের ভেদরগঞ্জ সংবাদদাতা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর এলাকায় মেসার্স ফারিয়া ফিলিং স্টেশনে শনিবার সকালে কয়েকটি ড্রামে করে তেল বিক্রি করছিলো কর্মচারীরা। বিষয়টি লক্ষ্য করলে ভিডিও ধারণ করে ওই দুই সাংবাদিক। ভিডিও ধারন করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন পাম্প মালিক ফারুক মাদবর। এসময় তাকে প্রশ্ন করা হলে পাশে থাকা তার ভাতিজা জামান মাদবরসহ কয়েকজন সাংবাদিক জাহিদ হাসান টিপুর উপর হামলা চালায়। পাশে থাকা আরেক সাংবাদিক হৃদয় এগিয়ে আসলে তাকেও লাঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে চিকিৎসা নিয়ে পাম্প মালিক ফারুক মাদবর ও জামান মাদবরের বিরুদ্ধে সখিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক জাহিদ হাসান টিপু। এ ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবী ভুক্তভোগী ও সাংবাদিক নেতাদের।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জাহিদ হাসান টিপু বলেন, আমাদের কাছে বেশ কয়েকদিন ধরে অভিযোগ আসে কাশিমপুর মেসার্স ফারিয়া ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ মানুষদের তেল না দিয়ে ড্রামে করে তেল মজুদ করে বেশি দামে খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়। সকালে পাম্পটিতে গেলে দেখা যায় পাম্প মালিকের লোকজন অপেক্ষমাণ গাড়িতে তেল না দিয়ে ড্রামে অকটেন মওজুদ করছে। এরপর ভিডিও ধারণ করতে গেলে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। ড্রামে তেল মজুদ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি ওই তেল প্রশাসনের দাবি করে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ভিডিও করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পাম্পের লোকজন আমাদের উপর হামলা চালায়। আমি থানায় ন্যায় বিচারের আশায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
আরেক সাংবাদিক আশিকুর রহমান হৃদয় বলেন, পাম্পের মালিক ফারুক মাদবর সেগুলো প্রশাসনের তেল উল্লেখ করে। তবে কোন দপ্তরে এই তেল যাবে এমন প্রশ্নে তিনি উত্তর না দিয়ে ড্রামসহ তেলগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন আমি এবং আমার সহকর্মী ভিডিও নেওয়ার চেষ্টা করলে পাম্পটির মালিক ফারুক মাদবর ও ভাতিজা জামান মাদবরসহ কয়েকজন আমার সহকর্মী জাহিদ হাসানের উপর হামলা চালায়। আমি তাকে বাঁচাতে এলে আমাকেও লাঞ্চিত করা হয়। আমি এই হামলার বিচার দাবি করছি।
বিষয়টি নিয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও একুশে টেলিভিশনের শরীয়তপুর প্রতিনিধি আবুল বাসার বলেন, কৃত্রিম সংকট ও অধিক মুনাফার লোভে কিছু অসাধু পাম্প মালিক তেল অবৈধ পথে বিক্রি করে। একজন সাংবাদিকের কাজ সত্য তুলে ধরা প্রশাসনকে কলমের মাধ্যমে দেখিয়ে দেওয়া। কিন্তু আজ চোরাকারবারিদের ভিডিও ধারণ করার কারণে স্থানীয় দুই সাংবাদিককে যেভাবে মারধর করা হয়েছে এটা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে গলা চেপে ধরা। প্রশাসন আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিচ্ছি।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন শরীয়তপুর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব নুরুল আমিন রবিন। তিনি বলেন, অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আজ সাংবাদিকরাই আহত। যেখানে সরকার চেষ্টা করছে সঠিকভাবে সবাইকে তেল পৌঁছে দেওয়ার, সেখানে এইধরনের কিছু অসাধু পাম্প মালিকদের কারণে কালোবাজারিরা তেলগুলো নিয়ে যাচ্ছেন। আর অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে আমাদের দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় সঠিক বিচার চাই। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ বিচার দাবি করছি।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স ফারিয়া ফিলিং স্টেশনের মালিক অভিযুক্ত ফারুক মাদবর বলেন, অনেক সময় প্রশাসনের তেল ড্রামে করেই দিতে হয়। তারা চাহিদাপত্র নিয়ে আসায় আমরা সেভাবেই তেলগুলো দিচ্ছিলাম। অনেক সময় প্রাইভেটকার ভেতরে ঢুকতে পারেনা, তাই ড্রামে ভর্তি করে তেল দিয়ে আসি। অনেক সময় নেতারা আসেন তাদেরও ম্যানেজ করতে হয়। এটাই মূল ঘটনা। পরে শুনেছি বাহিরে বসে আমার ভাতিজা ঝামেলা করেছে, যেটা সে ভুল করেছে। ও বুঝতে পারেনি আর চিনতেও পারেনি। পরে স্থানীয় লোকজন এসে বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছে। ওর এমন কাজে আমি দুঃখিত।
এ ব্যাপারে সখিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জেনে এসেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন