

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রত্যন্ত গ্রামের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে নিজের মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে মোটরসাইকেল তৈরি করে চমক দেখিয়েছেন বাগেরহাটের এক কিশোর। মাত্র ১৬ বছর বয়সী শেখ মুজাহিদ এখন নিজের তৈরি মোটরসাইকেল চালিয়ে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্ভাবন ইতোমধ্যেই সবার দৃষ্টি কাড়ছে।
মুজাহিদ বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কুমলাই গ্রামের শেখ আজিবর রহমানের ছোট ছেলে। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে জীবিকার তাগিদে একটি সাইকেল গ্যারেজে কাজ শেখেন। তিন বছর আগে বাড়ির সামনে ছোট একটি গ্যারেজ গড়ে তোলেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় তার উদ্ভাবনের পথচলা।
নিজের আগ্রহ থেকে প্রথমে একটি বাইসাইকেলকে মোটরসাইকেলে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন মুজাহিদ। প্রথমবার ব্যর্থ হলেও থেমে যাননি। পরে ইউটিউবের সহায়তা নিয়ে দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় তৈরি করেন একটি পূর্ণাঙ্গ মোটরসাইকেল। প্রায় দেড় বছর ধরে নিজ হাতে তৈরি এই বাহন ব্যবহার করছেন তিনি।
তার তৈরি মোটরসাইকেলটি দেখতে অনেকটা সাইকেলের মতো হলেও এতে রয়েছে মোটরসাইকেলের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য। প্রায় ৭০ কেজি ওজনের এই বাহনে সংযুক্ত করা হয়েছে তিন ধরনের সাউন্ড সিস্টেম। মুজাহিদের দাবি, মাত্র ১ লিটার পেট্রোল বা অকটেনে এটি ৮০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার পথ চলতে সক্ষম। মোটরসাইকেলটি তৈরিতে আমার ৩৫ হাজার টাকা লাগছে।
অল্প বয়সে এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখে বিস্মিত স্থানীয়রা। তারা মুজাহিদের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে তার কাছ থেকে আরও বড় কিছু প্রত্যাশা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেলটি চালিয়েছি। দেখতে সাইকেলের মতো হলেও কাছ থেকে মোটরসাইকেলের মতোই মনে হয়। চালাতে একটু অসুবিধা হয়। পিছনের চাকার চেয়ে সামনের চাকায় একটু চিকন হওয়ায়। দ্রুত গতিতে চালালে নিয়ন্ত্রণ একটু কঠিন হয়ে যায় ।
বন্ধু রাকিব হোসেন বলেন, মুজাহিদ সাইকেল থেকে মোটরসাইকেল তৈরি করেছে এটা আমাদের জন্য গর্বের। অনেক কষ্ট করে সে আজকের জায়গায় এসেছে। আমার বিশ্বাস, ভবিষ্যতে সে আরও বড় কিছু করবে।
কিশোর উদ্ভাবক মুজাহিদ বলেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই গ্যারেজে কাজ শুরু করি। নতুন কিছু তৈরি করার আগ্রহ থেকেই এই মোটরসাইকেল বানানোর চেষ্টা করি। প্রথমবার ব্যর্থ হলেও পরে আবার চেষ্টা করি। নিজেই পাইপ কিনে ফ্রেম তৈরি করেছি। এখনো উন্নতির চেষ্টা করছি। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই গাড়ির মাইলেজ অনেক ভালো। যদি আর্থিক সহায়তা পাই, তাহলে আরও নতুন কিছু তৈরি করতে পারবো।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এই কিশোর উদ্ভাবক ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় কিছু উপহার দিতে সক্ষম হবে।
রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না ফেরদৌসি বলেন, কিশোর বয়সে এ ধরনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। বাগেরহাটবাসীর জন্য এটা গর্বের বিষয়। যদি তিন আমাদের কাছে কোনো ধরনের সহযোগিতা চান, আমরা দিতে প্রস্তুত আছি।
মন্তব্য করুন