

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁদপুরের মতলব উত্তরে স্কুল ফিডিং (মিড-ডে মিল) কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা খাবারে আবারও নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এবার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা ডিম পচা থাকার অভিযোগে নতুন করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ওটারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আইরিন আক্তার জানায়, মিড-ডে মিল দেওয়া হবে শুনে আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু আজকের ডিমে এত দুর্গন্ধ ছিল যে আমরা কেউ খেতে পারিনি। পচা খাবার খেয়ে অসুস্থ হলে তো পড়াশোনা করা সম্ভব না। আমরা চাই সবসময় টাটকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া হোক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশিকুজ্জামান বলেন, আমার বিদ্যালয়ে ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আজ প্রায় ২০০টি ডিম পচা পাওয়া গেছে। বাইরে থেকে ভালো মনে হলেও ভেতরে নষ্ট ছিল। শুরুতে ভালো মানের খাবার সরবরাহ করা হলেও এখন নিম্নমানের খাবার আসছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থা ‘প্রত্যাশী'র মতলব উত্তর প্রজেক্ট ম্যানেজার আহাম্মেদ তাসনীন আলম বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ডিম পরিবর্তন করে দেব। ভবিষ্যতে যাতে এমন না হয় সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকব।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মাদ হারুন অর রশিদ মোল্লা জানান, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। যদি দ্রুত এসব ডিম পরিবর্তন না করা হয়, তাহলে বিলের কাগজে স্বাক্ষর করা হবে না। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল একই উপজেলার প্রভাতী শিশুকানন মান্দারতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির রুটি খেয়ে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় রুটিতে পচন ও দুর্গন্ধ থাকার কথা জানান অভিভাবকরা।
এভাবে ধারাবাহিকভাবে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠায় পুরো ফিডিং কর্মসূচির মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গত ২৯ মার্চ থেকে মতলব উত্তর উপজেলায় ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে চালু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ ধরনের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন