বৃহস্পতিবার
২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতা দিবসে দাওয়াত বঞ্চিত লালমনিরহাটের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীর প্রতীক
expand
ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীর প্রতীক

লালমনিরহাটের একমাত্র জীবিত খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসর প্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীর প্রতীককে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেয়া এক সাক্ষাতকারে দাওয়াত না পাওয়ার কথা স্বীকার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখায় সরকার ৪২৬ জন বীর সন্তানকে বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে। এর মধ্যে লালমনিরহাটের বাসিন্দা অবসর প্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক একজন।

বিধি অনুযায়ী, স্বাধীনতা দিবসসহ সকল জাতীয় দিবসে সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গকে সম্মান জানাতে জাতীয় অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয়। এ সময় তাদের সম্মান জানানো হয় এবং তাদের হাতে উপহার তুলে দিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সরকারি কর্মকর্তারা। প্রতি বছরের মত এ বছরও স্বাধীনতা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গকে সম্মান জানান জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

এ দাওয়াত থেকে বীরপ্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অবসর প্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার অভিযোগ, স্বাধীনতা পরবর্তী প্রতি বছর সকল জাতীয় দিবসে দাওয়াত পেলেও এবার তাকে দাওয়াত করেনি জেলা বা উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানে এই মুক্তিযোদ্ধাকে দাওয়াত না করায় জেলা জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহবায়ক গেরিলা লিডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শফিকুল ইসলাম কানুকেও দাওয়াত করেনি জেলা প্রশাসন।

অবসর প্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীর প্রতীক বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এই প্রথম সরকার আমাকে দাওয়াত করেনি। তবে কেন করেনি তা আমি জানি না। প্রতি বছর জাতীয় দিবসে সরকারী কর্মসূচিতে যাই, এবার না যাওয়ায় বিভিন্ন জনের নানান প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে। এটা অত্যন্ত লজ্জাসকর।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমান ডিসি একজন রাজাকার তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি সম্মান জানাতে চান না।’

লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহবায়ক গেরিলা লিডার'৭১ বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, ‘জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডকেও দাওয়াত করেনি জেলা প্রশাসন। জেলায় একমাত্র জীবিত খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে দাওয়াত না করা অত্যান্ত লজ্জাজনক। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খেতাব প্রাপ্তকে সম্মান না জানানো অপরাধ। এজন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তলব করা দরকার।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার বলেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাওয়াত করেছি। বীর প্রতীককে দাওয়াত না করার বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবেন। আমরা তাদেরকে যথেষ্ট পরিমাণ কার্ড দিয়েছি।’

মুক্তিযোদ্ধারা আপনাকে রাজাকার বলেছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখন কতজনে কত কিছু বলবেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন