

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিকে ঘিরে পর্যটক বরণে প্রস্তুত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজার। ইতোমধ্যে জেলার অধিকাংশ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশা, ছুটির পুরো সময়জুড়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকবে সৈকত নগরী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া টানা ৭ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ঢল নামবে কক্সবাজারে। বিশেষ করে ১৯ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের উপস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, পুরো রমজান মাসজুড়ে পর্যটক উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে। বর্তমানে জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে ব্যাপক হারে বুকিং চলছে।
কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে অধিকাংশ হোটেলের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করবেন, যা স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
হোটেল ওশান প্যারাডাইজের পিআরও সায়ীদ আলমগীর জানান, ১৯ মার্চ থেকে পর্যটকদের আগমন দৃশ্যমানভাবে বাড়তে শুরু করবে। আর ২৩ ও ২৪ মার্চ সৈকতে উপচে পড়া ভিড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হোটেলগুলো বিভিন্ন ধরনের ছাড় ও বিশেষ ঈদ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। অনেক রিসোর্টে পারিবারিক প্যাকেজ, হানিমুন অফার এবং গ্রুপ বুকিংয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
রামাদা হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে অতিথিদের জন্য বিশেষ বিনোদনমূলক আয়োজন রাখা হয়েছে। ঈদের দ্বিতীয় দিনে ডিজে পার্টি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং গালা বুফে ডিনারের আয়োজন থাকবে, যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে কাজ করবে।
এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ জানান, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্য ও গোয়েন্দা টিম ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, ঈদে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনের সম্ভাবনা থাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন