বুধবার
১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশ ও বেঁদের আতঙ্কে গ্রাম ছাড়া শতাধিক মানুষ

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার সাতঘড়িয়া গ্রামে
expand
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার সাতঘড়িয়া গ্রামে

পুলিশের গ্রেফতার ও বেঁদে সম্প্রদায়ের আক্রমণের আতঙ্কে গ্রাম ছাড়া হয়েছেন প্রায় ২০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ।

গত ৪ মার্চ, ১৪ রমজান থেকে প্রতিবেদন লিখার সময় পর্যন্ত অর্থাৎ ১৩দিন যাবত বাড়ি ছাড়া এ পরিবারগুলো। বৃদ্ধ, শিশু, নারী, পুরুষ কেউ থাকতে পারছেন না বাসায়। ঈদ তো অনিশ্চিত, কবে বাড়ি ফিরবেন জানেন না তারা।

এভাবে আর কতদিন বাড়ি ফেরা নিয়ে অনিশ্চিতায় অসহায়ের মতো ছুটছেন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে। শুধু গ্রামবাসী নন ওই এলাকার মসজিদের ইমামকেও ছাড়তে হয়েছে মাসজিদ। পাশ্ববর্তী মসজিদের হুজুরকে এসে পড়াতে হচ্ছে নামাজ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুসল্লীসহ গ্রামবাসী।

জানা যায়, গত ৩ মার্চ দিবাগত রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার সাতঘড়িয়া গ্রামে বিদুৎতের তাড় চুরি করতে গিয়ে হাতে-নাতে ধরা পড়ে পাশ্ববর্তী গোয়ালীমান্দ্রা গ্রামের সাগর ও সানারুল নামক দুই ব্যক্তি। পরে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যু বরণ করেন দু'জন। পরে এই ঘটনায় লৌহজং থানায় নিহত সানারুলের মা রোকসানা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এজাহারভুক্ত ৯ জন আসামীর সঙ্গে আর অজ্ঞাত নামায় ১৫/২০ জন দেওয়া হয়। নিহত দুইজন বেদে সম্প্রদায়ের হওয়ায় ঘটনার দিন সম্প্রদায়ের লোকজন ওই গ্রামের বসতবাড়িতে হামলা করে। ঘনঘন পুলিশের মহড়া ও বেঁদে সম্প্রদায়ের হামলার শিকারে বসতবাড়ি ঘর ছেড়ে তালাবদ্ধ করে গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছেন এ পরিবারগুলো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায়ই গ্রামে চুরি হয়ে থাকে। তাই গ্রামবাসী মিলে রাত জেগে পাহারা দেয়া হয়। ওইদিন রাতে ৩ জন চোরকে আটক করা হয়। দুইজন তাড় চুরি করেছে আরেকজন গাছের লাউ। এদের আটক করে আগে চুরি হওয়া ছাগলের কথা জিজ্ঞাসা করলে সাগর ও সানারুল শিকার করে। এতে এদের দুইজনকে বেশি মারধর করা হয়। এবং লাউ চোরকেও মারধর করে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সাগর ও সানারুলের মৃত্যু হয়। চোর চুরি করেছে গ্রামবাসী আটক করেছে এবং মারধর করেছে। শুধু গ্রামবাসী নয় নিহত সাগরের স্ত্রীর ভাই জাহাঙ্গীরও মারধর করেছে সাগরকে। এ ঘটনায় যাদের নামে মামলা হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেই নির্দোষ। কিন্তু তার বোন জামাই তো মারধর করেছে সে ভিডিও আছে তাহলে তার নামে মামলা হলো না কেন?

এ দিকে মামলার তালিকায় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকের নাম থাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে এলাকা জুড়ে। চোরের গায়ে হাত না দিয়েও হত্যা মামলার আসামি হতে হয়েছে ওই গ্রামের জনপ্রতিনিধি রুবেল আহমেদ রুমেল এবং স্থানীয় দৈনিক সভ্যতার আলো'র লৌহজং প্রতিনিধি শহীদ সুরুজের। এ ঘটনায় গ্রামবাসীসহ সাংবাদিক মহল তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।

বিক্রমপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাসুদ খান জানান, একজন সাংবাদিক পেশাগত কাজ করতে গিয়ে যদি মামলার আসামি হতে হয় তাহলে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হলো কিভাবে? এ বিষয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায়ও আমি বলেছি।

গ্রেফতারকৃত আসামী নাঈম হাসানের বাবা জানান, আমার ছেলে চোর ধরছে খবর পেয়ে গিয়ে ভিডিও করছে এ জন্য ওরে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশে কিসের আইন দুই বার দেশ স্বাধীন হয়েও দেশের আইন কানুন ঠিক হলো না। নির্দোষ ছেলেকে জেলখানায়। এ কষ্ট বুঝানোর মতো না।

এ বিষয়ে লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, চোর সন্দেহে দু'জনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হয়তো বা সে কারণ ওই গ্রামের বাসিন্দারা ভাবছে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে। তিনি আরও বলেন, গ্রামবাসীর কোন ভয়ের কারণ নেই সবাই বাড়িতে আসতে পারেন। বেদে সম্প্রদায়ের নেতাদের কঠোরভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যদি তাদের লোকজন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে। তাহলে কাউকে ছাড়া দেওয়া হবে না। এবং এ ঘটনায় যারা জড়িত না তাদের কাউকেই কিছু বলা হবে না।

নির্দোষীদের এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে এ প্রশ্নের উত্তরে ওসি, প্রতিবেদককে জানান, বিষয় হচ্ছে কাকে আসামী দেওয়া হবে এটা বাদী ভালো জানেন। সে সাথে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকের নাম দেওয়া হয়েছে সেটার যৌক্তিক তথ্য ও প্রমাণ আমাদের নিকট দেওয়া হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন