

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল গুলি ও মোটরসাইকেলসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি)।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিবাগত রাতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস পিস্তল, একটি এসএমজি, দুইটি ম্যাগাজিন ও ৫৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
সিএমপির পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এর নেতৃত্বে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), ডিসি (দক্ষিণ) এবং চকবাজার থানার ওসির নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন ও ইমনকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে চকবাজার থানা এলাকা থেকে একটি বিদেশি থ্রি-টু বোর রিভলভার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি পূর্বে সিএমপির পাহাড়তলী থানা থেকে লুণ্ঠিত হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া কাইয়ুম চৌধুরী বহদ্দারহাটে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ৮ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানার একটি দল রাতেই অভিযান চালিয়ে মনির নামে আরেক সহযোগীকে একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস (৯ এমএম) পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি সিএমপির ডবলমুরিং থানা থেকে লুণ্ঠিত হয়েছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পরে মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভোরে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে তার সহযোগী সায়েমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সায়েমের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে খুলশী থানা এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুইটি ম্যাগাজিন এবং ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এসব অস্ত্র খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে কেনা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া তিনজনই শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তারা সাজ্জাদের নির্দেশে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং বালুমহাল নিয়ন্ত্রণের মতো অপরাধে সশস্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করত।
এছাড়া গ্রেফতার হওয়া কাইয়ুম চৌধুরীর কাছ থেকে সাজ্জাদ গ্রুপে নতুন সদস্য নিয়োগ সংক্রান্ত শপথ গ্রহণের একটি ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, সম্প্রতি চন্দনপুরায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সংঘটিত গুলির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া তিনটি অস্ত্রই ব্যবহার করা হয়েছিল। বিষয়টি ব্যালিস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
সিএমপি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের অন্যান্য সহযোগীদের ধরতে এবং আরও অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১টি বিদেশি রিভলভার (থ্রি টু বোর) ও ৯ রাউন্ড গুলি, ১টি ব্রাজিলিয়ান টরাস (৯ এমএম) পিস্তল, ১টি এসএমজি, ২টি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড গুলি, ১টি মোটরসাইকেল।
অন্যদিকে পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ছিনতাই প্রতিরোধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ডিবি (পশ্চিম) কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। মারুফ হোসেন তুষার (২১), মো. বাবু (২৭) এবং মেহেদী হাসান ওরফে হাসান (২২)।
তাদের কাছ থেকে একটি ধামা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় পেনাল কোডের ৩৯৯/৪০২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া বাবুর বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চুরির ৬টি মামলা, তুষারের বিরুদ্ধে ২টি এবং মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে।
মন্তব্য করুন