

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী নৌ বন্দর ঘাট থেকে রাজিবপুর ও কর্তিমারী নৌ-রুটটি গত তিন মাস ধরে বন্ধ। ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র নাব্য সংকটের কারণে এই দুই রুটের বিভিন্ন স্থানে পলিজমে চর জেগে উঠায় নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এছাড়াও কৃত্রিম তেল সংকটের কারনে বেশি মূল্যে তেল কিনছে নৌচালকরা। ইজারাদার বলছেন, এবার ইদে যাত্রীদের চাপও কম হবে। চিলমারী-হরিপুর সেতু চালু এর কারন হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
তাদের দাবি গত তিন মাস থেকে দুই ঘাট বন্ধ হওয়া রুটে ১৮ লক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। নাব্যতা সংকট কাটিয়ে উঠতে না পারলে আগামীতে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।
ঘাট ইজারাদার তথ্য মতে, চিলমারী-রাজিবপুর রুটে দৈনিক তিনটি সিরিয়ালের নৌকা যাত্রী পারাপার করতেন, এতে জনপ্রতি নেয়া হত ১৩০/- টাকা, এছাড়াও কর্তিমারী রুটে নেয়া হত ১০০ টাকা জনপ্রতি। ইজারাদার বলছেন, প্রতিদিন এই দুই রুটে যাবতীয় খরচ ছাড়া আয় হত প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চিলমারী ঘাটটি মোট ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা মুল্যে ইজারা নেয় আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি। এছাড়াও রৌমারীঘাট ১কোটি ২৫ লক্ষ টাকা ও রাজিবপুর ৭০ লক্ষ টাকা মূল্যে ইজারা দেয় বিআইডব্লিউটিএ।
নৌকা চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীতে পানি নাই তার উপর আবার তেলের দাম বেশি। অনেক দুর ঘুরে ঘুরে যাইতে হচ্ছে। তাছাড়া অনেক চ্যানেল দিয়ে নৌকা চলতে না পারায় কোনো আয় হচ্ছে না। প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়ে নৌ চালক মমিনুল ইসলাম মমিন জানান, তাদের মতে, আগে বেশ কয়েকটি চ্যানেল দিয়ে সহজেই যাতায়াত করা যেত। নদী খনন না করায় এখন নদীর তলদেশে পলি জমে অনেক জায়গায় পানি এতটাই কমে গেছে যে নৌকা আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে তারা বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, এতে সময় ও জ্বালানি খরচ দুইই বাড়ছে।
রাজিবপুর ঘাটের স্থানীয় বাসিন্দা আরিশফা আনাম মিতু বলেন, আমার বাবার বাসা রাজিবপুর শ্বশুর বাড়ি উলিপুরে। রাজিবপুরে থেকে নৌকায় চিলমারী ঘাট দিয়ে যাতায়াত করতাম। কিন্তু তিন মাস থেকে রাজিবপুর ঘাটটি বন্ধ থাকায় আমাকে রৌমারীতে গিয়ে নৌকায় উঠতে হয়। এতে আমাদের খরচও বেশি হচ্ছে ভোগান্তিও বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নুর আমিন জানান, নৌপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহনে এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমও ব্যাহত হবে।
রাজিবপুর ঘাট ইজারাদার মো. সাব্বীর হোসেন রাজীব বলেন, যেখানে দিনে নৌকা চার বার করে যাতায়াত করত সেখানে এখন এক বারও করছে না। প্রায় চার, সারে চার মাস থেকে বন্ধ যাত্রী পারাপার। যে টাকা দিয়ে ঘাট নিছি সেটাই উঠবে কিনা সন্দেহ।
চিলমারী ঘাট ইজারাদার আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারকে নির্ধারিত ইজারা মূল্য পরিশোধ করে ঘাট ইজারা নিয়েছি। কিন্তু নৌরুটের চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। কয়েকটি নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, এবার ঈদে আশানুরূপ যাত্রী হবে না কারণ নাব্যতা সংকটে দুটি ঘাট বন্ধ। তাছাড়া এবার হরিপুর সেতু চালু হওয়ায় যাত্রীরা সে পথেও আসবে। এবছর আমাদের লোকসানের মুখে পরতে হবে।
চিলমারী পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র জানান, আমরা তো সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চাই, কিন্তু এখানে এত পরিমাণ ড্রেজিং করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। কয়েক বছর থেকে এমন হয়নি, এবার প্রাকৃতিক কারনে যদি কিছু উলোটপালোট হয়ে থাকে এটা আমাদের দায়ভার না, এটা আসলে প্রাকৃতিক কারন।
মন্তব্য করুন