

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার অভয়ারণ্যখ্যাত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবশেষে শুরু হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশাল পরিসরের সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই অভিযানে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাত থেকেই পরিকল্পিত কৌশলে অভিযান শুরু হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোন বা ইউএভি (UAV) থেকে প্রাপ্ত ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম ও বিস্তীর্ণ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজের পর থেকেই জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে ধাপে ধাপে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করেন। অত্যন্ত সতর্কতা ও কৌশলের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পালিয়ে যেতে না পারে। এবারের অভিযানে বাহিনীগুলোর সর্বোচ্চ আভিযানিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫৫০ জন সেনা সদস্য, ১ হাজার ৮০০ জন পুলিশ সদস্য, ৪০০ জন র্যাব সদস্য, ৩৩০ জন এপিবিএন সদস্য এবং ১২০ জন বিজিবি সদস্য। এছাড়া অভিযানে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১৫টি আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (APC), তিনটি প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য তিনটি হেলিকপ্টার রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অবৈধ দখল ও সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগ বাড়তে থাকায় বিষয়টি রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্ব পায়। পরে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে এই বৃহৎ অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (DGFI)-এর মাঠপর্যায়ের তথ্য ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
জানা গেছে, প্রশাসনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জটিলতা ও দীর্ঘদিনের অনীহার কারণে এতদিন অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সোমবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা একযোগে অভিযানে নামে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. রাসেল বলেন, “জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। এতে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশগ্রহণ করছেন। অভিযান শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।”
তিনি আরও জানান, অভিযান শুরুর আগেই ভোর থেকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এলাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে বসানো হয়েছে একাধিক তল্লাশি চৌকি। ফলে অভিযানের সময় কেউ যেন এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও এত বড় আকারের অভিযান এই প্রথম। ফলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
অভিযান চলমান থাকায় পুরো এলাকার পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য ও ফলাফল জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন