

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকা থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ৭ বছরের এক শিশুকন্যা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল এবং তার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
জানা যায়, গত ১ মার্চ সকালে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। চন্দ্রনাথ মন্দির সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা প্রথম তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার গলায় জরুরি অস্ত্রোপচার করেন। পরদিন তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়া হলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে পুনরায় তাকে নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগে স্থানান্তর করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত আইসিইউতে রাখা হয়। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল, বিশেষ করে উরুর অংশে কাটাছেঁড়ার আলামত পাওয়া গেছে। অভ্যন্তরীণ আঘাতও ছিল মারাত্মক।
নিহত শিশুর চাচা রমিজ জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময়ও শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল ছিল এবং সে ইশারায় স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছিল। তবে রাত আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। ভোরের দিকে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মৃত্যুর আগে শিশুটি ইশারায় কিছু তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং একটি নামও নির্দেশ করেছিল, যদিও তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি।এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ১ মার্চ রাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানা-য় একটি মামলা দায়ের করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে পুলিশ।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন