

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক দুর্লভ মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। পূর্ণিমার রুপালি চাঁদ আজ ঢাকা পড়বে পৃথিবীর ছায়ায়, আর মুহূর্তেই ধারণ করবে টকটকে লাল কিংবা তামাটে আভা।
২০২৬ সালের প্রথম এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লাড ওয়ার্ম মুন’ নামে পরিচিত। আজকের পর ২০২৮ সালের আগে বিশ্ববাসী আর কোনো পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দেখা পাবে না।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশে চন্দ্রোদয়ের ঠিক পর থেকেই গ্রহণের শেষ অংশ দেখার সুযোগ মিলবে।
গ্রহণের সময়সূচি ও স্থায়িত্ব
আইএসপিআরের তথ্যমতে, আজ দুপুর ২টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে চাঁদ উপচ্ছায়ায় প্রবেশের মাধ্যমে গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পূর্ণগ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৫টা ৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। এই গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা হবে ১.১১৫। নাসা জানিয়েছে, পুরো মহাজাগতিক প্রক্রিয়াটি ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলবে, যার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা চাঁদকে টকটকে লাল দেখা যাবে।
বাংলাদেশে কখন দেখা যাবে?
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ থেকে পূর্ণগ্রাস অংশটি সরাসরি দেখা না গেলেও চন্দ্রোদয়ের পর থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত গ্রহণের শেষ অংশ দেখা যাবে।
‘ব্লাড মুন’ কেন হয়?
যখন সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে পৃথিবী অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ পুরোপুরি ঢাকা পড়ে যায়। সূর্যের আলো সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে না পারায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল চিরে আসা লাল আলোর প্রতিফলন চাঁদের গায়ে পড়ে। ফলে চাঁদকে গাঢ় লাল বা তামাটে দেখায়, যাকে ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়।
অনলাইনে দেখার সুযোগ
আকাশ মেঘলা থাকলে বা সরাসরি দেখার সুযোগ না মিললে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে এটি লাইভ দেখা যাবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্রিফিথ অবজারভেটরি, টাইমএন্ডডেট ডটকম এবং ভার্চুয়াল টেলিস্কোপ প্রকল্প তাদের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে এই মহাজাগতিক দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, আজকের এই বিরল সুযোগটি হাতছাড়া করা উচিত নয়। কারণ, পরবর্তী পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের জন্য আমাদের ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
মন্তব্য করুন
