

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সীমান্ত মানেই একসময় আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর চোরাচালানের গোপন ভয়। রাত নামলেই সীমান্তবর্তী জনপদে বাড়ত দুশ্চিন্তা। তবে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
নিয়মিত টহল, আধুনিক নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানের ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ৫৩ বিজিবি'র সীমান্ত এলাকায় অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে চরাঞ্চল ও দুর্গম সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষের মাঝে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে বাড়ানো হয়েছে দিন ও রাতের টহল। নদীপথ, চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালান কার্যক্রমে জড়িত চক্রগুলো অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমেও প্রশংসিত হচ্ছে বিজিবি। শীতবস্ত্র বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা ও দুর্যোগকালীন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সীমান্ত এলাকায় সামাজিক আস্থা তৈরি করেছে বাহিনীটি।
বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও শান্ত সীমান্ত গড়ে উঠছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিজিবির সক্রিয় উপস্থিতির কারণে সীমান্ত এলাকায় এখন অনেক বেশি নিরাপত্তা অনুভূত হচ্ছে। কৃষিকাজ, যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আগের তুলনায় স্বাভাবিক হয়েছে। এক সীমান্তবাসী বলেন, “আগে রাতে ভয় থাকত, এখন বিজিবির টহলের কারণে আমরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারছি।
সীমান্তবর্তী গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম এনপিবি নিউজ কে বলেন, আগে সীমান্ত এলাকায় সবসময় একটা ভয় কাজ করতো। রাতে গুলির শব্দ, চোরাচালানকারীদের আনাগোনা ছিল। এখন বিজিবির টহল বাড়ায় পরিস্থিতি অনেক শান্ত। আমরা নিশ্চিন্তে মাঠে কাজ করতে পারছি। বিজিবির সদস্যরা শুধু পাহারা দেন না, আমাদের সঙ্গেও কথা বলেন। কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখলে জানাতে বলেন। এতে এলাকার সবাই সচেতন হয়েছে।
গৃহিণী রহিমা বেগম এনপিবি নিউজ কে বলেন , স্বামী রাতে বাইরে থাকলে চিন্তায় থাকতাম। এখন বিজিবির উপস্থিতিতে অনেক নিরাপদ লাগে। সন্তানদের নিয়েও স্বস্তিতে আছি।
সীমান্তের কৃষক আকতার হোসেন এনপিবি নিউজ কে বলেন, আগে রাতে জমিতে যেতে ভয় লাগতো। এখন বিজিবির টহল থাকায় অনেক নিরাপদ বোধ করি। পরিবার নিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ৫৩ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান এনপিবি নিউজ কে বলেন, “সীমান্তকে নিরাপদ রাখা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি সীমান্ত নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান জিরো টলারেন্স। সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কাজ করছি।”
নিরাপদ সীমান্তের সুফল মিলছে সার্বিক জীবনযাত্রায়। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা বেড়েছে, কৃষিকাজে মনোযোগ ফিরেছে, স্বাভাবিক হয়েছে সামাজিক জীবন। সীমান্তে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিও পাচ্ছে ইতিবাচক প্রভাব। ভবিষ্যতেও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান বিজিবি।
মন্তব্য করুন
