

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পাহাড়ি ঢাল, উঁচু জমি এবং তুলনামূলক শীতল আবহাওয়া-এই সবমিলিয়ে পার্বত্যাঞ্চলে শীতকালীন সবজি চাষের জন্য অনুকূল পরিবেশ ও উপযোগী সময়। ফলে পাহাড়ের কৃষকরা এখন শীতকালীন সবজি চাষে পুরোপুরি ব্যস্ত। চলতি বছরের অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শীতকালীন সবজি চাষে মনোনিবেশ করেছে পাহাড়ি জনপদের জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলার কৃষকরা। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তাদের উৎপাদিত সবজি বাজারে আসতে শুরু করবে।
কৃষকরা শীতকালীন সবজি বিক্রি করে উচ্চ লাভের আশা করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও এ জেলায় বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর লংগদুর উৎপাদিত সবজি শুধু জেলার চাহিদা পূরণ করে না, এটি রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারেও পৌঁছায়। বিশেষ করে বগাচতর, ভাসান্যাদম ও গুলশাখালীর কিছু গ্রামের উর্বর ভূমি, জলে ভাসা জমি ও পাহাড়ের পাদদেশে শীতকালীন সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। উপজেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এই ধরনের চাষ ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন- যদি পরিকল্পিতভাবে কৃষি ও শীতকালীন সবজিতে উন্নত জাত নির্বাচন, নার্সারি ব্যবস্থাপনা, কৃষক প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা যায়, তবে লংগদুতে আবাদ আরও সম্প্রসারণ সম্ভব। এর মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সাথে কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
লংগদু উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ইসরাফিল হক জানান, এ বছর শীতকালীন সবজি আবাদ হচ্ছে ৮১৪ হেক্টর জমিতে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের সঠিক পরামর্শ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সরকারি প্রণোদনা দিয়ে সবজির ভালো ফলন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তবে চলতি বছরের বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে কিছু ক্ষতি ঘটেছে। বীজ ও চারা নষ্ট হওয়ায় উপজেলার বাজারে প্রভাব পড়েছে এবং হঠাৎ করে বিভিন্ন সবজির দাম বেড়ে গেছে। বর্ষা মৌসুম শেষে কৃষকরা ক্ষতি পূরণের জন্য শীতকালীন সবজি চাষ শুরু করেছেন।
পাহাড়ে বিভিন্ন উপজেলায় চাষকৃত সবজির মধ্যে রয়েছে—ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, টমেটো, আলু, বেগুন, মূলা, ফ্রেঞ্চবীন, শিম, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, লাল শাক, পালং শাক, ডাটাশাক, বরবটি, ধনেপাতা এবং অল্প জমিতে স্কোয়াশসহ আরও নানা ধরনের শাক-সবজি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাইব্রিড জাত এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল জাত চাষাবাদ করছেন এখানকার কৃষক।
কৃষকরা আশা করছেন, শীতকালীন সবজির এই আবাদ এবার তাদের জন্য অর্থনৈতিক সাফল্য বয়ে আনবে। ফলে সচল হবে পাহাড়ের অর্থনীতি।
মন্তব্য করুন
