

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকার ব্যস্ত গার্মেন্টস ব্যবসার কাজ শেষে মাত্র দুই দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন দুলাল মিয়া (৪২)। স্ত্রী–সন্তান, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু সেই আনন্দমুখর সফরই পরিণত হলো চরম বেদনায়। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিন কন্যা সন্তানের জনক দুলাল মিয়া।
শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার জাওয়ার বাজার সংলগ্ন এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুলাল মিয়া ধলা ইউনিয়নের আজবপুর গ্রামের মৃত হাবুল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে নিজ মোটরসাইকেল নিয়ে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন দুলাল মিয়া। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাটি বোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রচণ্ড ধাক্কায় তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে দুপুর ৩টা ৪ মিনিটে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মুহূর্তেই আনন্দের বাড়িতে নেমে আসে শোকের মাতম।
নিহতের স্বজনরা জানান, দুলাল মিয়া ঢাকায় গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে সুযোগ পেয়ে মাত্র দুই দিন আগে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরিবারের সঙ্গে হাসি-আড্ডার সেই দিনগুলো এত দ্রুত শেষ হয়ে যাবে—কেউ কল্পনাও করেনি।
তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাটি বোঝাই ট্রাক্টরটি আটক করেছে। চালককে সনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
এই দুর্ঘটনায় তিনটি অবুঝ কন্যা সন্তান পিতৃহারা হলো। এলাকাবাসী বলছেন, ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল বন্ধ না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আরও ঘটবে। শোকে স্তব্ধ আজবপুর গ্রাম—একটি পরিবার হারাল তাদের উপার্জনক্ষম অভিভাবক, আর তিনটি শিশু হারাল বাবার স্নেহছায়া। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় তাড়াইল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।
মন্তব্য করুন
