

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরগুনার আমতলী উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে অপর এক চাচাতো ভাই নিহত হয়েছেন।
শনিবার দুপুরে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত ব্যক্তি হলেন- উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল সিকদার (৪০)। অভিযুক্ত ঘাতক একই গ্রামের মুনসুর সিকদার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের ফরিদ সিকদারের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই মুনসুর সিকদারের প্রায় ১০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদ সিকদার ওই জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মুনসুর সিকদার। একপর্যায়ে সে একটি ছুরি নিয়ে ফরিদ সিকদারকে ধাওয়া করে।
এ সময় ফরিদ সিকদার প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে মুনসুর তাকে লক্ষ্য করে ছুরি নিক্ষেপ করে। ছুরিটি ফরিদের পায়ে বিদ্ধ হলে তিনি চিৎকার শুরু করেন।
তার ডাকচিৎকার শুনে চাচাতো ভাই জহিরুল সিকদার ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্ষিপ্ত মুনসুর সিকদার একপর্যায়ে জহিরুল সিকদারের পেটে ছুরিকাঘাত করে পালানোর চেষ্টা করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা জহিরুল সিকদারকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত ফরিদ সিকদারের ছেলে সজিব সিকদার অভিযোগ করে বলেন, জমিজমা নিয়ে মুনসুর সিকদারের ছেলে জাকির সিকদার দীর্ঘদিন ধরে বংশের সবার সঙ্গে ঝামেলা করে আসছে।
তার উসকানিতেই আজ আমার বাবার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে আমার চাচা জহিরুল সিকদার প্রাণ হারান।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, নিহত জহিরুল সিকদারকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত মুনসুর সিকদারকে আটক করে। তার কাছ থেকে ব্যবহৃত ছুরিটিও জব্দ করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী সার্কেল) মো. তারিকুল ইসলাম মাসুম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন
