

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় দেড় বছর আগে পানি শোধনাগার প্রস্তুত হলেও মাঝখানে মাস দুয়েক পানি সরবরাহের পর তা বন্ধ হওয়ায় বিশুদ্ধ পানি নিয়ে সংকটে পড়েছেন ৬শ পরিবারের অন্তত ২ হাজার মানুষ। এ জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দুষছেন তারা।
জানা যায়, পৌরসভার পাঁচটি ওয়ার্ডে বসবাসরত নাগরিকদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে গত ২০২২ সালের শেষ দিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৩ টাকা ব্যয়ে ২০০ ঘনমিটার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ভূগর্স্থ পানি শোধনাগার প্রকল্প তৈরির কাজ শুরুর পর তা শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন নাগাদ। এক হাজার দু'শ পরিবারের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহের পরিকল্পনা থাকলেও শেষমেশ সংযোগ দেওয়া হয় ৬০০ পরিবারে। এ জন্য স্থাপন করা হয় ৮০০ মিটার ট্রান্সমিশন লাইন এবং ১২ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যাসের ডিস্ট্রিবিউশন পাইপ লাইন।
পরে ওই বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পানি সরবরাহের জন্য শোধনাগারটি বুঝিয়ে দেয় পৌর কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু পৌরসভায় (IUGIP) প্রকল্পের আওতায় ড্রেন ও আরসিসি রাস্তা নির্মান করতে গিয়ে ঠিকাদার কর্তৃক ০৯ নং ওয়ার্ডে মিঠু হোটেলের পিছন হতে পৌরসভার পিছন পর্যন্ত প্রায় ৪০টি ও পৌর বাজার হতে উপজেলা স্কাউট ভবন পর্যন্ত ১০ টি হাউজ কানেকশন কেটে ফেলে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় শোধনাগারের পানি সরবরাহ। কয়েকমাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়েছেন পৌরসভার ৬শ পরিবারের অন্তত ২ হাজার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, শোধনাগারে থাকা অবশিষ্ট পানিতে শ্যাওলা পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানিসরবরাহ বন্ধ থাকায় পড়ে রয়েছে সাড়ে ৪ কোটি টাকায় তৈরি এ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি। পানি সংকটে ভোগার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
তারা বলছেন, ড্রেন ও আরসিসি রাস্তা নির্মান করতে গিয়ে ঠিকাদার যে ৫০টি পরিবারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে, তা জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করার দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা পৌরসভার। কিন্তু তাদের সেই দায়িত্বহীনতার কারণে কয়েকমাস ধরে আমাদের এই ভোগান্তি। ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশল কার্যালয় সূত্র বলছে, ড্রেন ও আরসিসি রাস্তা করার সময় পানি সরবরাহ লাইন কেটে ফেলা লাইনগুলো মেরামতের দায়িত্ব ছিল পৌরসভার। এটা বারবার বলেও কোনো কাজ হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে এর সমাধানের জন্য প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়হান আলীর সাথে মুঠোফোনে কল এবং পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
মন্তব্য করুন
