

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জীবনের গভীর অনুসন্ধানের মাধ্যমে ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠলেন নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া এলাকার এক যুবক। সনাতন ধর্ম থেকে বিদায় নিয়ে তিনি ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন। এই যুবকের পূর্ব নাম ছিল হৃদয় চন্দ্র দাস, আর ইসলাম গ্রহণের পর তার নতুন নাম রাখা হয়েছে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে উপজেলা সদরে অ্যাডভোকেট ফজলে আজিম তুহিনের চেম্বারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধর্মান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইউটিউবে বিভিন্ন ধর্মীয় বক্তা ও আলেমদের বক্তব্য, কুরআনের ব্যাখ্যা এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী শুনতে শুনতে তিনি ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন। ইসলামের শান্তিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং মানবিক মূল্যবোধ তার মনে গভীর ছাপ ফেলে, যা তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করে।
ধর্মান্তরের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া আইনসম্মতভাবে সম্পাদিত হয়েছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় হলফনামা এবং নোটারি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে কালিমা পাঠের মাধ্যমে তিনি ইসলামে প্রবেশ করেন। এই মুহূর্তে উপস্থিত সকলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নতুন মুসলিম ভাইকে সবাই আলিঙ্গন করে স্বাগত জানান এবং তার জন্য দোয়া করেন।
২৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গৌরাঙ্গ বাবুর বাড়ির জগন্নাথ চন্দ্র দাসের ছেলে। পেশায় তিনি একজন গ্রামীণ চিকিত্সক। তার পরিবারে রয়েছেন বাবা-মা, স্ত্রী এবং দুটি সন্তান।
স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা জানান, আল্লাহ যাকে সঠিক পথ দেখাতে চান, তার জন্য বিভিন্ন মাধ্যম খুলে দেন। ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে ধর্মীয় বক্তৃতা শোনা তারই একটি উদাহরণ। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন মুসলিম ভাইয়ের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে এবং তার জীবন ইসলামের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
ইসলাম গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আব্দুল্লাহ বলেন, “ধর্মীয় বক্তৃতা শুনতে শুনতে আমার মনে একটা নতুন আলো জ্বলে উঠেছে। আজ মনে হচ্ছে, আমি সত্যিকারের পথ খুঁজে পেয়েছি। হৃদয়ে এক অসাধারণ শান্তি অনুভব করছি। আমি আমার পরিবারের সকলকে ইসলামের ছায়ায় আসার আমন্ত্রণ জানাব।
অ্যাডভোকেট ফজলে আজিম তুহিন জানান, স্থানীয় কয়েকজন ইমাম এবং সম্মানিত ব্যক্তিরা তার চেম্বারে এসে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি আইনি নিয়ম মেনে কোর্ট অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে সমস্ত কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
মন্তব্য করুন
