

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন অভিযোগ করে বলেছেন, ফ্যাসিস্ট সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৪২টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল। এসব মামলার কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। যে মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়, সেটিও ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও ভিত্তিহীন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার আদালতকে প্রভাবিত করে জোরপূর্বক খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছিল।
তিনি বলেন, “যে মামলায় ম্যাডামকে সাজা দেওয়া হয়, তার আগের দিনই আমরা আইনজীবী ও দলের সিনিয়র নেতারা তাকে জানিয়েছিলাম—পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। তখন আমি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম এবং আগেই জানতে পেরেছিলাম সরকার তাকে যেকোনোভাবে সাজা দিতে চায়।”তিনি আরও বলেন, “আমি খালেদা জিয়াকে আদালতে না যাওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি বলেছিলেন—এই সরকার আমাকে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে বের করে দিয়েছে, আমার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকেও উচ্ছেদ করেছে। এরপরও আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আমি আদালতে যাবো।”কারাবন্দি অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে অ্যাডভোকেট জয়নুল
আবেদীন বলেন, “একদিন তাকে দেখতে গিয়ে দেখি তিনি তার বাম হাত নাড়াতে পারছেন না। তিনি জানান, কারাগারে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। আমি তাকে সেটি না নিতে বললেও কারাগারের চিকিৎসকরা বলেন, ইনজেকশন না নিলে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়বেন।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা আইনমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম—খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চিকিৎসার বিষয়টি জানালে তিনি বলেছিলেন—‘ওনার তো বয়স হয়েছে, ওনার বাঁচার দরকার কী।’ তখনই আমরা বুঝে যাই, সরকার তাকে বাঁচতে দিতে চায় না; জেলখানাতেই তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল।”সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান ও সদস্য সচিব ওহিদুল ইসলাম প্রিন্স।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুল আলম ফকির, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজ আলম মিঠু, কেন্দ্রীয় যুবদলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ইউনুস আলী রবি, উপজেলা বিএনপির সদস্য দুলাল চন্দ্র সাহা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রেশমা রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মালেক সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক মামুন, কেদারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা দুয়ারী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রকিবুল হাসান রাকিব, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রাফিল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খান মোহাম্মদ জসিম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিক আল আমিন, সদস্য সচিব আরাফাত মৃধা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক হোসেন ইমরানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। আর আগে দুপুরে উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে দোয়া মোনাজাত অংশগ্রহণ করেন জয়নুল আবেদীন।
মন্তব্য করুন
