

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপ-শহরে বাংলাদেশ চায়না এক্সিবিশন সেন্টারে বসেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার ৩০ তম আসর। প্রতি বছর মেলার স্টল নির্মাণ কাজে ধীর গতি হলেও এ বছর শুরু থেকেই বানিজ্য মেলা পূর্নাঙ্গ রূপ পায়। এবারের আসরে ৩২৪ টি স্টল বরাদ্দ দিয়েছে ইপিবি। তবে এবারের আসরে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে দৃষ্টিনন্দর জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্যাভিলিয়ন। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের ২৪ এর ৫ আগস্ট থেকে ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসের চিত্র। মঙ্গলবার দিনব্যাপী জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন নামক প্যাভিলিয়নের প্রতিটি দেয়ালসহ বিভিন্ন স্থানে ঝলমল করছে আন্দোলন সংগ্রামের শহীদদের বিভিন্ন স্থিরচিত্র আর পর্দায় দেখা যাচ্ছে সংগ্রামকালীন সময়ে তাদের দেশ রক্ষায় ঐতিহাসিক কর্মকান্ডের ভিডিও চিত্র। এই প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশের স্পর্শকাতর এসব চিত্র দেখে দর্শনার্থীরা মুহূর্তেই যেন হারিয়ে যাচ্ছে দেশ রক্ষার্থে আন্দোলন সংগ্রামের সেই দিনগুলোতে। বাংলার ইতিহাস ও আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত এই প্যাভিলিয়নের নাম দেওয়া হয়েছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
৩ জানুয়ারি বাণিজ্যমেলার অনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্যাভিলিয়ন। এ প্যাভিলিয়নে ছবি-সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে যায়। অনেককেই দেখা গেছে এসব আন্দোলন সংগ্রামের শহীদদের জীবন ও কর্মের ছবিগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে রাখা হয়েছে দেশ রক্ষায় প্রাণ উৎসর্গ করা শতশত শহীদদের ছবি তাদের নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন বই। প্যাভিলিয়নটিতে বিভিন্ন দেয়ালে জুলাই যোদ্ধা মুগ্ধ' র পানি বিতরণের স্থিরচিত্র শোভা পাচ্ছে। শোভা পাচ্ছে শহীদ ওসমান হাদী, শহীদ আবু সাঈদের অপরাধের বিরুদ্ধে বুক পেতে দেয়ার দৃশ্য, শোভা পাচ্ছে ৩৬ জুলাইয়ে আন্দোলনে শহীদ আনাছের মাকে লেখা চিঠি, আর ছেলেকে কাঁধে নিয়ে তোলা বিপ্লবী শহীদ ওসমান হাদীর ছবি। প্যাভিলিয়ন টিতে দেশ রক্ষার্থে আন্দোলন সংগ্রামের নানা ঘটনার খন্ড চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। এর ঠিক পূর্ব দিকে পাশেই রয়েছে আরেকটি প্যাভিলিয়ন। যেখানে শোভা পাচ্ছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ এর ৩৬ জুলাইয়ের শহীদদের বীরত্ব গাথা কিছু স্থিরচিত্রের।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থেকে মেলায় এসেছেন আক্তার। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, বাণিজ্যমেলার মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে খানিক পূর্ব দিকে গিয়ে যেতেই চোখে পড়ল জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্যাভিলিয়নটি। এখানে এসে দেখলাম বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪ এর ৫ আগস্ট থেকে ৩৬ জুলাইয়ের শহীদদের কিছু স্থিরচিত্র। এদিকে প্যাভিলিয়নের এক কোনে বিশাল একটি মনিটরে এই সমস্ত শহীদদের কৃতিত্ব গাঁথা ভিডিও চিত্র ভেসে উঠছে । এসব দেখে যেন মুহূর্তেই হারিয়ে গেলাম ৩৬ জুলাইয়ের সেই আন্দোলনের দিনগুলোতে।
গাজীপুর থেকে আগত কলেজ শিক্ষার্থী আফিফ হোসেন বলেন, প্যাভিলিয়নটিতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্থিরচিত্র ও ভিডিও চিত্র স্থান পেয়েছে। এখানে ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনরত সময়ে শহীদ মুগ্ধ র পানি বিতরণ, আবু সাঈদের প্রতিবাদ জানাতে বুক পেতে দেয়ার দৃশ্য ও বিপ্লবী শহীদ ওসমান হাদীর ছেলেকে কাঁধে নেওয়া স্থির চিত্রটি এই প্যাভিলিয়ন টিকে প্রানবন্ত করেছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ৩৬ জুলাইয়ে যে সকল শহীদরা বীরত্ব গাথা কর্মকান্ড দিয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে তাদের সম্পর্কে অনেক কিছুই এখানে আসলে জানা যাবে।
নরসিংদী থেকে আগত দর্শনার্থী রাসেল আহমেদ বলেন, ২৪ এর ৩৬ জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের ছবি ও ভিডিও চিত্র দেখে খুবই মর্মাহত হয়েছি। শত শত শহীদ ও হতাহতদের ছবি এখানে শোভা পাচ্ছে। ২৪এর ৩৬ জুলাইয়ে এ সকল যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ আমরা স্বৈরাচার মুক্ত স্বাধীনতা পেরেছি। এ সকল শহীদদের কারণেই আজ আমরা স্বাধীন।
মন্তব্য করুন
