

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এলকেএইচ উপকুলীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের নিচু জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
সোমবার ( ৫ জানুয়ারী) দুপুরে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউপির এলকেএইচ উপকুলীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের দুই পাশে প্রায় নয় কোটি টাকা ব্যায়ে দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ চলমান।
সারা বছর স্কুলের মাঠটি নীচু জমি হওয়ায় জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকে। নতুন ভবন হলেও রাস্তা ও বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠের মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ করছেন। ফলে মাঠটিতে ঝুঁকিপূর্ণ চারটি গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিদার মোল্লাসহ কয়েকজন বলেন, বিদ্যালয়ের মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ বিধিবহির্ভূত কাজ। গত কয়েক মাস বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি না থাকায় প্রধান শিক্ষক হঠকারী সিদ্ধান্ত ও অভিভাবকদের মতামতের গুরুত্ব না থাকায় বিভিন্ন সময় সরকারি বরাদ্দের স্লিপের টাকাও যেনতেন ভাবে খরচ দেখিয়ে পার করেছেন তিনি। এছাড়াও প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিস্বার্থে নীজের ইচ্ছেমত কাজ ও ব্যবহার করছেন। প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তান অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের দুই পাশে নতুন দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজের সার্থে মাঠের মাটি কেটে রাস্তা করা হয়। রাস্তা না করে দিলে তার বরাদ্ধ বাতিল হবে এবং গাড়ি নিয়ে ঢুকতে অসুবিধা হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে মাঠের মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, নিচু জমি বা নষ্ট জমি, যাই হোক শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ কেটে কোনো কিছুই করা যাবে না। খেলার মাঠ কেটে রাস্তা নির্মাণে বিষয়ে প্রধান শিক্ষক অবহিত করেননি।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি আবদুর রশীদ মোল্লা বলেন, বিদ্যালয় চত্বরের মাটি কাটার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক তাঁকে কিছুই জানাননি। প্রধান শিক্ষকের মধ্যে কিছু খামখেয়ালিপনা রয়েছে। তিনি কোনো সিদ্ধান্তই রেজুলেশন আকারে করেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাছান কাউছার বলেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ কেটে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
