

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বছরের শুরুতেই শীতকালীন পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুষ্টিয়ার কৃষকরা। কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন তারা। বীজতলায় বীজ বপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পেঁয়াজ চাষের প্রস্তুতি। এরপর চারা রোপণ, নিয়মিত পরিচর্যা ও সেচের মাধ্যমে তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলার আশা করছেন চাষিরা।
গেল বছর পেঁয়াজের ভালো দাম ছিল বাজারে। মৌসুমের শুরুতে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। কয়েকমাসে আগেও বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩৫ টাকা কেজি। সেই পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। আর প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়েছে ২২ থেকে ২৫ টাকা। ফলে খরচ বাদ দিয়েও লাভ রয়েছে চাষিদের। তাই চলতি অর্থবছর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এ ফসল আবাদে আগ্রহ দেখা গেছে চাষিদের মাঝে।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, বীজ বপন ও চারা রোপণের গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে চাহিদামতো নন ইউরিয়া টিএসপি, এমওপি এবং ডিওপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দিলে সার দিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
চাষিদের মতে, সঠিক সময়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন আরও বাড়ত এবং খরচের তুলনায় লাভও বেশি হতো।
কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,উপজেলায় মোট কৃষিজমির পরিমাণ ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৪ হাজার ৯২০ হেক্টর জমি পেঁয়াজ চাষাবাদের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। বছর জুড়ে ভালো দাম পাওয়ায় পেঁয়াজ আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত জমিতে পেঁয়াজ চাষাবাদের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ। জমি ভাড়া, বীজ, সার, চাষ ও পরিচর্যা বাবদ এ বছর প্রতি হেক্টরে খরচ পড়ছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। তবে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে যদুবয়রা,পান্টি, বাগুলাট, নন্দলালপুর ও চাপড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে ঘুরে দেখা যায়, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী ২০ থেকে ৩০ জন দলবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন। তারা জানান, চারা রোপণের ভরা মৌসুমে শ্রমিক চরম সংকট থাকে। এ সময় শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ নিজেদের জমিতে আবার অনেকে খরচ মেটাতে ৫০০ টাকা মজুরিতে মাঠে কাজ করেন।
আক্কাস আলী মোল্লা নামে এক কৃষক বলেন,প্রায় তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ করেছি। কয়েক বছর হলো সারের খুব সংকট। বেশি টাকায় সার কিনে চাষ করতে গিয়ে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকরা চরম সংকটে আছে। সরকার যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
তৌহিদুল ইসলাম নামে আরও এক কৃষক বলেন, দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করছি। ডিলার লাইন ধরিয়ে ন্যায্যমূল্যে ১০-২০ কেজির বেশি সার দিচ্ছে না। তবে সাব ডিলাররা বস্তা ধরে সার দিচ্ছে না। কিন্তু বস্তাপ্রতি ৫০০-৭০০ টাকা বেশি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে সার পাবে না, এ ভয়ে সাব ডিলারের নাম বলেননি তিনি। তার ভাষ্য, ডিলাররা সিন্ডিকেট করে সাব ডিলারদের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছে।
তার ভাষ্য,সাব ডিলার ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে সার সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করছে। এদের আইনের আওতায় আনা দরকার।
কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম বলেন,সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ন্যায্যমূল্যে সার বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে সার বিক্রি করছিল। তাদের অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন,কৃষকরা যেন সরকারি দামে এবং চাহিদা অনুযায়ী সার পাই,সেই লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে প্রশাসন।
মন্তব্য করুন
