

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা ও সামরিক চাপ, দুই পথই খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং উভয় পক্ষই যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানের কারণেই ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি শক্ত অবস্থান না নিত, তাহলে তেহরান কখনোই বৈঠকে আগ্রহ দেখাত না। তিনি বলেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও তা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আগের মতোই কঠোর পদক্ষেপ নেবে। যদিও সম্ভাব্য সেই পদক্ষেপের ধরন সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইটভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি বিষয়টি সরাসরি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে জানতে চাইবেন। তার আশা, এরপরই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, অধিকাংশ বিষয়ে তাদের মত এক হলেও কিছু সীমিত বিষয়ে পার্থক্য রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, লেবাননে ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
একই দিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করবেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চলমান শান্তি উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। ওই ঘটনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালায়। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার পর গত তিন দিন ধরে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে শুরু হওয়া কূটনৈতিক আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।