মঙ্গলবার
২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন তিন দেশের পতাকা আছে কাভান সুলিভানের বুটে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:২০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী প্রজন্মের সম্ভাবনাময় তারকাদের তালিকায় এখন নিয়মিত উচ্চারিত হচ্ছে কাভান সুলিভানের নাম। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই রেকর্ড, প্রশংসা আর ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহ; সবকিছুই যেন দ্রুত এসে ধরা দিয়েছে তার সামনে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই কিশোর ফুটবলারের গল্প কেবল মাঠের নয়। তার পারিবারিক ইতিহাসে রয়েছে বাংলাদেশ, আর সেই পরিচয়ই বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন নিজের বুটে।

কাভানের ব্যবহৃত অ্যাডিডাসের বিশেষ থ্রিডি-প্রিন্টেড বুটে পাশাপাশি জায়গা পেয়েছে তিনটি দেশের পতাকা—যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও বাংলাদেশ। এটি শুধু নান্দনিক নকশা নয়; বরং তার পারিবারিক পরিচয়ের প্রতীক। জানা যায়, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এমন প্রযুক্তির বুট ব্যবহার করা প্রথম ফুটবলারও তিনি।

এই তিন দেশের সংযোগের শুরু কাভানের নানি সুলতানা আলমকে ঘিরে। ঢাকায় জন্ম নেওয়া সুলতানা উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। সেখানেই তার পরিচয় হয় জার্মান অধ্যাপক ক্লাউস ক্রিপেনডর্ফের সঙ্গে। পরে তাদের পরিবারেই জন্ম নেন কাভানের মা হেইকে।

ফলে বাংলাদেশ, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র—এই তিন দেশের উত্তরাধিকার একসূত্রে গাঁথা হয়েছে কাভানের পরিচয়ে। পরিবারের সেই ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই বুটে তিন দেশের পতাকা যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়।

পারিবারিক পরিচয়ের মতোই মাঠেও দ্রুত নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন কাভান। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই মাত্র ১৪ বছর ২৯৩ দিন বয়সে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) অভিষেক হয় তাঁর। সেই ম্যাচের মধ্য দিয়ে লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি।

অভিষেকের পরও ধারাবাহিকভাবে নজর কেড়েছেন এই মিডফিল্ডার। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ডিফেন্স ফোর্স এফসির বিপক্ষে দুটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে দলের ৭–০ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ মার্কিন গোলদাতার স্বীকৃতিও অর্জন করেন।

কাভানের পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছে। তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তালিকায় লামিনে ইয়ামাল, এস্তেভাও ও এনদ্রিকদের সঙ্গে তাঁর নামও উঠে এসেছে। পাশাপাশি আঠারো বছর পূর্ণ হলে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে।

তবে সুলিভান পরিবারের ফুটবল গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় লেখা হচ্ছে বাংলাদেশের নাম নিয়ে। কাভানের বড় দুই ভাই রোনান ও ডেক্লান সুলিভান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুজনই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে খেলেছেন এবং সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। রোনান পুরো টুর্নামেন্টে নিয়মিত একাদশে খেলেছেন, আর ডেক্লান বদলি হিসেবে নেমেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

একই পরিবারের তিন ভাইয়ের ফুটবলযাত্রা তাই তিন ভিন্ন বাস্তবতার গল্প বলে। একজন যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার লিগে ভবিষ্যতের সুপারস্টার হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন, অন্য দুজন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ফুটবলে এমন পারিবারিক বৈচিত্র্য খুব বেশি দেখা যায় না।

পরিবারটির কাছে বাংলাদেশ শুধু পূর্বপুরুষের স্মৃতি নয়, আজও আবেগের একটি অংশ। বড় ভাই কুইন সুলিভান বিভিন্ন সময় বাংলাদেশি খাবারের প্রতি নিজের আগ্রহের কথা বলেছেন। ফিলাডেলফিয়ার বাংলাদেশি রেস্তোরাঁয় নান-বিফ কারি খাওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি নানির কাছ থেকে শোনা ঢাকার গল্পও তুলে ধরেছেন তিনি। এসব স্মৃতি প্রমাণ করে, ভৌগোলিক দূরত্ব বাড়লেও পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কখনোই মুছে যায়নি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন