শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তিতে নোবেলজয়ী মাচাদোকে নিয়ে যে কারণে এত সমালোচনা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২২ পিএম
শান্তিতে নোবেলজয়ী মাচাদো
expand
শান্তিতে নোবেলজয়ী মাচাদো

ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রপন্থি নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতার পর থেকেই শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। সমালোচকরা অভিযোগ তুলেছেন, তিনি ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক এবং গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় প্রকাশ্যে তাদের পক্ষ নিয়েছিলেন। এছাড়া নিজ দেশে সরকারের পতনের জন্য বিদেশি শক্তির সহায়তা চাওয়ার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মারিয়া কোরিনা মাচাদো দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। দেশটির সাধারণ নাগরিকদের সাহস ও আশার প্রতীক হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই নেত্রীকে নোবেল কমিটি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার আলোকবর্তিকা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জর্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, মাচাদো প্রমাণ করেছেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধই শান্তির ভিত্তি। তিনি দেখিয়েছেন, সংকট ও নির্যাতনের মাঝেও সাহসিকতা টিকে থাকে।

ফ্রিডনেস আরও যোগ করেন, গত এক বছরে মাচাদোকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে, তবে তিনি দেশ ত্যাগ করেননি। যখন স্বৈরশাসন শক্তি দেখায়, তখন এমন মানুষদের স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন যারা স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ায়, বলেন তিনি।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণা আসার ঘণ্টাখানেক পরই হোয়াইট হাউস এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে। তাদের বক্তব্য, পুরস্কার প্রদানে “শান্তির চেয়ে রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

পরে মাচাদো নিজ নোবেল পুরস্কারটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন। ট্রাম্পও প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি এতে খুশি।

মাচাদোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পুরোনো পোস্টগুলো আবার আলোচনায় এসেছে, যেখানে তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েল ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আকস্মিক হামলার পর তিনি ইসরায়েলের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। যদিও ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা হত্যাযজ্ঞের পক্ষে তিনি কখনো সরাসরি বক্তব্য দেননি।

তবে সমালোচকরা বলছেন, তার রাজনৈতিক অবস্থান ইসরায়েলের প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল” ছিল। এক পোস্টে মাচাদো লিখেছিলেন, ভেনেজুয়েলার সংগ্রামই ইসরায়েলের সংগ্রাম। পরবর্তীতে তিনি ইসরায়েলকে স্বাধীনতার প্রকৃত মিত্র আখ্যা দেন এবং ক্ষমতায় গেলে ভেনেজুয়েলার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন।

নরওয়ের সংসদ সদস্য বিয়র্নার মক্সনেস অভিযোগ করেছেন, মাচাদো ২০২০ সালে লিকুদ পার্টির সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, যারা গাজায় সংঘটিত গণহত্যার জন্য দায়ী। তাঁর মতে, এমন ব্যক্তিকে নোবেল দেওয়া নোবেল কমিটির নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

মার্কিন মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার এমন কাউকে দেওয়া উচিত, যিনি সকল মানুষের ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান, গাজায় নিরীহ মানুষের হত্যার নীরব সমর্থককে নয়।

সংগঠনটি আরও বলে, এই পুরস্কার নোবেল কমিটির নৈতিক সুনামকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় মাচাদো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন-যা এখন আবার নতুন করে আলোচিত হচ্ছে।

২০১৮ সালে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মৌরিসিও মাক্রিকে লেখা এক চিঠিতে দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার অপরাধী শাসনব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিতে আন্তর্জাতিক সমাজের সাহায্য প্রয়োজন।

এই পদক্ষেপকে অনেকেই তার দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী ও রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক বলে আখ্যা দেন।

মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নোবেল জয় যেমন তার সাহসিকতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের স্বীকৃতি, তেমনি এটি এক তীব্র বিতর্কও উস্কে দিয়েছে। একদিকে তিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক, অন্যদিকে তার অতীত রাজনৈতিক অবস্থান ও ইসরায়েলপ্রীতি নিয়ে উঠেছে বহু প্রশ্ন। নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে তাই এখনো বিশ্বজুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা।

সূত্র: এনডিটিভি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন