

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মাত্র ১৩ বছর বয়সে পারিবারিক সহিংসতা ও বাবার ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন রোশিন আলী। সেই সময় তাকে খুঁজে বের করার দায়িত্বে ছিলেন মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা টাইলার শ্রুপ। তবে ভাগ্যের পরিহাস, তাদের দেখা হয়নি তখন। ১২ বছর পর, এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার মধ্য দিয়ে তাদের পুনর্মিলন হয়, আর সেই পরিচয় গড়ায় প্রেমে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর রোশিন আলী টেনেসির জ্যাকসন এলাকায় স্থানীয় শেরিফ ডিপার্টমেন্টে যোগ দেন। নতুন কর্মস্থলে গিয়ে দেখেন, সহকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন সেই অফিসার টাইলার শ্রুপ, যিনি বছর কয়েক আগে নিখোঁজ থাকা অবস্থায় তাকে খুঁজতে গিয়েছিলেন।
একদিন আলি নিজের কঠিন শৈশবের গল্প শেয়ার করলে শ্রুপ হঠাৎ বুঝতে পারেন, ঘটনাটি তারই পুরনো কেসের অংশ। তিনি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, সময়, স্থান ও ঘটনার বিবরণ মিলিয়ে বুঝলাম, আমি তো সেই দলেই ছিলাম, যারা রোশিনকে খুঁজছিল। ভাবতেই অবাক লাগে, তখন তাকে খুঁজছিলাম, আর আজ আমরা পাশাপাশি কাজ করছি।
ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালের আগস্টে তারা বাগদান সম্পন্ন করেন এবং এখন তাদের পাঁচ মাস বয়সী এক সন্তান রয়েছে। আগামী বছরই তারা বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ‘রোরো নিকোল’ নামে পরিচিত আলি টিকটকে নিজের জীবনের এই অবিশ্বাস্য গল্প শেয়ার করেছেন। এক ভিডিওতে শ্রুপের হাত ধরে তিনি বলেন, এই সেই অফিসার, যিনি একসময় আমাকে খুঁজে বের করার দায়িত্বে ছিলেন।
চার পর্বের এক টিকটক সিরিজে আলি শৈশবের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ২০১০ সালে, তার জুয়ায় আসক্ত বাবা টাকা হারানোর পর ক্ষোভে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে তিনি রোশিনকে মারধর করে, তার হাত-পা ও মুখ টেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন।
সেই ভয়াল রাতেই রোশিন ও তার ভাই জানালা ভেঙে পালিয়ে যান। পুলিশ এসে তাদের বাবা-মাকে আটক করে, যদিও কয়েকদিন পর তারা জামিনে মুক্তি পান। এরপর রোশিন ও তার ভাইবোনদের ফস্টার কেয়ারে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি ১৮ বছর পর্যন্ত ছিলেন।
বহু বছর পর শেরিফ ডিপার্টমেন্টে চাকরি শুরু করলে ভাগ্য ফের তাদের মুখোমুখি করে। রোশিন বলেন, যখন শ্রুপ বললেন,‘আমি তো তোমাকে খুঁজছিলাম’ আমরা দুজনই হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার কাছে মুহূর্তটা ছিল সত্যিই অবিশ্বাস্যভাবে সুন্দর।
মন্তব্য করুন
