

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নরওয়ের রাজধানী অসলোতে আজ শুক্রবার (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) ঘোষণা করা হবে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম।
বৈশ্বিক সংঘাত, যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়টিতে পুরস্কারটি নিয়ে আগ্রহ ও জল্পনা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
বিশ্বজুড়ে চলমান সহিংসতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি অভূতপূর্বভাবে জটিল আকার নিয়েছে। সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের “গ্লোবাল কনফ্লিক্ট ডেটাবেস”-এর তথ্যমতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ২০২৪ সালেই সবচেয়ে বেশি দেশ সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শান্তিতে নোবেল কার হাতে যাচ্ছে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি বিশ্বের আটটি বড় সংঘাতের সমাধানে ভূমিকা রেখেছেন এবং তাই নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য প্রার্থী। তবে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—এ বছর অন্তত তাঁর পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
সুইডিশ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক পিটার ওয়ালেনস্টেইন বলেন, না, এ বছর ট্রাম্প নন। সম্ভবত আগামী বছরে তাঁর উদ্যোগগুলোর বাস্তব ফলাফল দেখা গেলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।
অনেক গবেষক মনে করেন, ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি নোবেল পুরস্কারের মূল ভাবনার—আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব ও নিরস্ত্রীকরণ—বিরোধী।
অসলো পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিনা গ্রেগার বলেন, শুধু গাজায় মধ্যস্থতার চেষ্টা নয়, ট্রাম্পের অনেক নীতি শান্তি ও মানবাধিকারের বিপরীতে গেছে। ফলে তিনি নোবেলের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন।
ট্রাম্পের বিতর্কিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে—আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার, বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের হুমকি, ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন, এবং সংবাদমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াতনে ফ্রিডনেস জানিয়েছেন, আমরা কোনো প্রার্থীর সামগ্রিক অবদান দেখি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাস্তব ও স্থায়ীভাবে কী অর্জন করেছেন।
এ বছর শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন মোট ৩৩৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। নোবেল কমিটির নীতিমালা অনুযায়ী, মনোনয়ন তালিকা ৫০ বছর গোপন রাখা হয়। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও সংস্থার মতে, কিছু প্রার্থী ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন।
সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে—সুদানের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংগঠন ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস
প্রয়াত রুশ বিরোধীদলীয় নেতা আলেক্সেই নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া
আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ODIHR।
এ ছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, শরণার্থী সংস্থা UNHCR, এবং ফিলিস্তিনে সহায়তামূলক কাজের জন্য UNRWA-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।
অনেকে মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) বা সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষাকারী সংস্থা CPJ ও RSF–ও সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারে।
নরওয়ের ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক হালভার্ড লেইরা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নোবেল কমিটি আবার মূল আদর্শ—মানবাধিকার, গণতন্ত্র, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নারী অধিকারে—গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে এ বছর এমন কাউকে পুরস্কার দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যিনি বিতর্কিত নন।
নোবেল কমিটি প্রায়ই চমক দেয়, তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত বলা যায় না।
২০২৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিল “নিহোন হিদানকিও”, জাপানের পারমাণবিক বোমা হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সংগঠন। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধে কাজ করে আসছে, যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
মন্তব্য করুন
