

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হঠাৎ করেই চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে জাতিসংঘ। মূল অর্থদাতা যুক্তরাষ্ট্রের বিল পরিশোধে গড়িমসির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এতে করে সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান নয়টি শান্তিরক্ষা মিশনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জাতিসংঘের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমানো হবে।
এতে করে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্যকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। পাশাপাশি অনেক বেসামরিক কর্মীও চাকরিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা তহবিলে সবচেয়ে বেশি অর্থ প্রদান করে যুক্তরাষ্ট্র-মোট বাজেটের প্রায় ২৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীন দেয় প্রায় ২৪ শতাংশ অর্থ। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ২.৮ বিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে। নতুন অর্থবছরের শুরুতে ১.৫ বিলিয়ন ডলার বকেয়া থাকলেও এখন তাতে আরও ১.৩ বিলিয়ন যোগ হয়েছে।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা শিগগিরই ৬৮০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করবে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘ মিশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরের শান্তিরক্ষা তহবিলের ৮০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ বাতিল করেন। তাঁর প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন সম্পূর্ণ বন্ধের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। তাদের যুক্তি, মালি, লেবানন ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মিশনগুলো কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, কসোভো, সাইপ্রাস, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, পশ্চিম সাহারা, গোলান মালভূমি এবং আবিয়াই অঞ্চলের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম। এসব মিশনের একাধিকটিতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরাও কর্মরত।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, সংস্থাটি বর্তমানে তার ৮০তম বর্ষপূর্তির সময় সবচেয়ে বড় আর্থিক চাপে পড়েছে। তিনি জানান, ব্যয় সংকোচন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির বিকল্প উপায় খুঁজতে সংস্থা কাজ করছে।
সূত্র: AP News
মন্তব্য করুন
