

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সম্প্রতি প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নতুন তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট মাসে এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আগত শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময়কাল বাদ দিলে এটি আগস্ট মাসে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী আগমন বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অধীনস্থ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রশাসন (আইটিএ) প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্ট মাসের আগমনের রেকর্ড সাধারণত শরৎ সেমিস্টারে ভর্তি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগস্ট বা সেপ্টেম্বরেই নতুন সেমিস্টার শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হ্রাসের পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিমালা বড় ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, কিছু এশীয় দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ, রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে বিদেশিদের বহিষ্কারের হুমকি এবং বিশেষ করে চীন ও হংকং থেকে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চালুর ফলে আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে।
এছাড়া, অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী যারা সাধারণত গ্রীষ্মের ছুটিতে নিজ দেশে ফিরে যায়, তারা এবার যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ অনেকের আশঙ্কা ছিল-ভিসা বৈধ থাকলেও হয়তো দেশে ফেরার পর পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আইটিএর তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া থেকে মোট ১ লাখ ৯১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, যা ঐ মাসে দেওয়া সব ছাত্র ভিসার প্রায় ৬০ শতাংশ।
তবে চীন ও ভারত-দুই দেশই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রেরণের ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকলেও এবার তাদের সংখ্যায় বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
চীন থেকে শিক্ষার্থী আগমন কমেছে প্রায় ১২.৪ শতাংশ, মোট সংখ্যা ৮৬,০০০ এর বেশি। ভারত থেকে আগমন কমেছে প্রায় ৪৪.৫ শতাংশ, মোট সংখ্যা ৪১,০০০ এর বেশি। হংকং থেকেও শিক্ষার্থী আগমন কমেছে প্রায় ৭.৭ শতাংশ।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা জটিলতা, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে এশীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হ্রাস পেয়েছে। তারা মনে করছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক ভর্তি হ্রাসজনিত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: South China Morning Post
মন্তব্য করুন
