

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নিউ ইয়র্কে আদালতের বাইরে এক নারীকে অভিবাসন কর্মকর্তারা ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ভুল বোঝাবুঝি ধরা পড়ায় ওই নারীকে ছেড়ে দেওয়া হলেও অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আপাতত দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।
এদিকে শিকাগোর একটি অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে বিক্ষোভ দমাতে কাঁদানো গ্যাসের শেল ছোড়া হয়। এ ঘটনায় হিলডা নামে এক নারী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। গত কয়েক দিনে আটক ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক নীতির সমালোচনা করছেন অনেকেই, তবে তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। রাষ্ট্রপুঞ্জ ও পশ্চিমা দেশগুলোকে উদ্দেশ করে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘আপনারা সবাই নরকে যান।’ তাঁর দাবি, এসব দেশের মদতেই অবৈধ অনুপ্রবেশ বাড়ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে অভিবাসন রুখতে তিনি আরও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, নিউ ইয়র্ক, শিকাগো ও ওয়াশিংটনে অপরাধের রেকর্ড ছাড়াই মানুষকে আটক করা হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও একটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে, যাতে আইসিইকে শুধুমাত্র ভাষা বা জাতিগত কারণে কাউকে আটকাতে নিষেধ করা হয়েছিল।
চেলসির ‘লা কোলাবোরাটিভা’ নামের অভিবাসী অধিকার গোষ্ঠীর আইনজীবী মিলাগ্রোস ব্যারেটো জানান, তিনি নিজ চোখে দেখেছেন-গুয়াতেমালার এক নারীকে কর্মকর্তারা ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেন এবং পিছমোড়া করে আটকান। মহিলার নাবালক সন্তান কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। পরে জানা যায়, সেই নারী স্থায়ী বাসিন্দা।
রয়টার্সের ছবিতেও মাটিতে পড়ে থাকা সেই নারী ও কাঁদতে থাকা তাঁর সন্তানের দৃশ্য ধরা পড়ে। ব্যারেটো বলেন, ওই পরিবার আদালতের শুনানিতে যাচ্ছিল, তখনই তাঁদের গাড়ি আটকায় আইসিই সদস্যরা। গাড়ির জানালা ভেঙে পরিবারের এক সদস্যকে হেফাজতে নেওয়া হয়। আহত হিলডাকে পরবর্তীতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তাঁর অভিযোগ, ‘শুধু লাতিনো চেহারার মতো দেখালেই মানুষকে বাইরের লোক মনে করে আটক করা হচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন অভিবাসন দপ্তর এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম কড়া সমালোচনা করে একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে কর্মকর্তারা পরিচয় গোপন করতে মুখোশ ব্যবহার করতে পারবেন না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি-নিরাপত্তার স্বার্থেই আইসিই কর্মকর্তাদের মুখোশ ব্যবহার চালু রাখতে হবে।
মন্তব্য করুন
