

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় নগরী গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একদিনেই অন্তত ৪৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই হামলায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৬ হাজার মানুষ।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বোমাবর্ষণে জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলভিত্তিক আশ্রয়কেন্দ্রসহ বহু ভবন ভেঙে পড়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে মানুষজন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
খবরে বলা হয়, শনিবার শুধু গাজা সিটিতেই ৪৯ জন নিহত হন। ওইদিন গোটা গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় মোট ৬২ জন ফিলিস্তিনি মারা যান। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের হিসাবে, কেবল গাজা সিটি থেকেই অন্তত ৬ হাজার মানুষ গৃহহারা হয়েছেন।
সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, “অবরোধ ও ধারাবাহিক হামলার মধ্যে গাজা সিটির মানুষের জীবন এখন চরম অমানবিকতায় নেমে এসেছে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নগরী দখলের লক্ষ্যে ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে। এমনকি লিফলেট ফেলে মানুষকে প্রাণভয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।
আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রতি ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরপর আবাসিক ভবন ও জনসেবামূলক স্থাপনায় বোমা ফেলা হচ্ছে, ফলে মানুষ সরে যাওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন না। তার ভাষায়, “হামলার ধরণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ইসরায়েলি সেনারা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আশ্রিত পরিবারগুলোর ওপর ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করছে।” বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
তবে অনেকেই দক্ষিণের আশ্রয়শিবিরে অমানবিক পরিস্থিতি দেখে আবার গাজা সিটিতে ফিরে যাচ্ছেন। আল-মাওয়াসি ক্যাম্প ও দেইর আল-বালাহ এলাকাগুলো ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ভিড়ে জর্জরিত এবং সেগুলোও নিয়মিত ইসরায়েলি হামলার শিকার হচ্ছে।
আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান ডা. মুহাম্মদ আবু সালমিয়া বলেন, “মানুষ পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমে আসছেন, কিন্তু দক্ষিণে পৌঁছাতে পারছেন খুব কমসংখ্যক। দক্ষিণেও জায়গা না থাকায় অনেকে আবার গাজা সিটিতেই ফিরছেন।”
বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে, গাজা সিটিতে এখনও প্রায় ৯ লাখ মানুষ অবস্থান করছেন। তবে ইসরায়েলি সেনাদের দাবি, সিটি ছেড়ে ইতোমধ্যেই আড়াই লাখের বেশি মানুষ পালিয়েছে।
মন্তব্য করুন
