

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাজা যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে চায় সৌদি আরব। দেশটি মনে করছে, হামাসকে প্রভাবমুক্ত ও নিরস্ত্র করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (পিএ) আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে পুনরায় শক্তিশালী করার সময় এসেছে।
মিডল ইস্ট আই-এর হাতে আসা সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক গোপন প্রতিবেদনে এমন পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদ গাজায় একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠনের প্রস্তাবকে সমর্থন দিচ্ছে। এই বাহিনীতে সৌদি আরব ছাড়াও অন্যান্য আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যুক্ত হতে পারে।
সৌদি আরবের প্রস্তাবিত রূপরেখায় বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হামাসের ভূমিকা ধীরে ধীরে কমিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পথ তৈরি করা হবে।
রিয়াদ মনে করে, হামাসের অস্ত্র ও প্রভাব অঞ্চলটিতে শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে তাদের নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাজায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পুরো পরিকল্পনাটি মিসর, জর্ডান ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা হবে। উদ্যোগটির তদারকি করছেন সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা মানাল বিনতে হাসান রাদওয়ান।
২০০৭ সালে হামাসের নির্বাচনী বিজয়ের পর থেকে গাজায় কার্যত কোনো উপস্থিতি নেই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের। তাই রিয়াদ দুর্নীতি দমন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে পিএকে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, ফিলিস্তিনিদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরব ‘ফিলিস্তিনি জাতীয় সংলাপ’ আয়োজনের উদ্যোগ নিতে চায়, যাতে সব গোষ্ঠী পিএ’র ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। তবে হামাসকে সেই সংলাপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না—সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, পুরো প্রতিবেদনে ইসরাইলের নাম একবারও উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদনের তারিখের আগের দিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান গাজায় ইসরাইলি হামলা বন্ধে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এর আগে গ্রীষ্মে সৌদি আরব ও ফ্রান্স যৌথভাবে গাজার জন্য এক শান্তি উদ্যোগ প্রস্তাব করেছিল, যেখানে যুদ্ধবিরতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংলাপ পুনরায় শুরুর আহ্বান জানানো হয়।
অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজস্ব যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করেন, যেখানে কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্র সহযোগিতা করে। ওই চুক্তিতে সৌদি-ফরাসি প্রস্তাবের বেশ কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর বন্দি বিনিময়, আংশিক ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাস নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে হামাস স্পষ্টভাবে জানায়, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নিরস্ত্রীকরণ সম্ভব নয়।
পরবর্তীতে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প জর্ডান, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, মিসরসহ বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে শারম আল শেখে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আয়োজিত শীর্ষ বৈঠকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ অনুপস্থিত ছিলেন। সূত্রগুলো জানায়, তারা চুক্তিতে নিজেদের প্রত্যাশিত ভূমিকা না পাওয়ায় বৈঠকে যাননি।
অঞ্চলের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ হিসেবে সৌদি আরব ও আমিরাতকেই গাজার পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার প্রধান ব্যয়ভার বহন করতে হবে, বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বৃহস্পতিবার বলেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্তে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাব ইসরাইল কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই
মন্তব্য করুন
