

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। আহত চার সেনাকে দ্রুত জর্ডানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামান্য আহত অন্য সেনারা আবারও দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন।
নিহত ও নিখোঁজ সেনাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি পেন্টাগন। অন্যদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা রাতভর দেশটির আকাশসীমায় অন্তত ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
এক সপ্তাহে নিহত ১৬ মার্কিন সেনা
জর্ডানের হামলার পর চলতি সপ্তাহে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলটকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে 'ভেস্তে গেছে' ঘোষণা করার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন বিমান হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন উত্তেজনা
গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হলেও মাত্র এক মাসের মধ্যে তা ভেঙে যায়। এরই মধ্যে শনিবার এক লিখিত বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের বারবার চুক্তি লঙ্ঘন একটি মৌলিক সত্যকে উন্মোচিত করেছে—মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই এবং এর কোনো গ্রহণযোগ্যতাও নেই।"
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর সময় বিমান হামলায় তার বাবা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ আরোপ করলে এর জবাবে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে। এতে দুই দেশের বিরোধ এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।