শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এরদোগানের ধূমপান ছাড়ার পরামর্শে মেলোনির রসিক জবাব

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:২৪ পিএম
expand
এরদোগানের ধূমপান ছাড়ার পরামর্শে মেলোনির রসিক জবাব

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি প্রশংসা করে বলেন, আপনি দারুণ বলেছেন, এটি একটি খারাপ অভ্যাস, ধূমপান ছাড়তে হবে।

এর জবাবে মেলোনি হাস্যরসের সুরে বলেন, যদি আমাকে ধূমপান ছাড়তে হয়, তবে হয়তো কাউকে মেরে ফেলতে হবে!

৪৮ বছর বয়সী এই ইতালীয় নেত্রী সোমবার মিশরের শারম আল শেখে অনুষ্ঠিত গাজা শান্তি সম্মেলনে অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় এমন মন্তব্য করেন। এরদোগানের বক্তব্যের পর পাশে থাকা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হাসিতে ফেটে পড়েন।

ম্যাক্রোঁ মজা করে বলেন, অসম্ভব ব্যাপার!” তখন মেলোনি উত্তর দেন, “জানি, আমি সত্যিই কাউকে ক্ষতি করতে চাই না।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক বইয়ে মেলোনি জানিয়েছেন, প্রায় ১৩ বছর বিরতি নেওয়ার পর তিনি আবার ধূমপান শুরু করেছেন। তার দাবি, ধূমপান মাঝে মাঝে কূটনৈতিক যোগাযোগে সহায়ক হয়—বিশেষ করে তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলোচনায় এটি কাজে এসেছে।

শান্তি সম্মেলনের এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মেলোনির প্রশংসা করেন। তিনি মজার ছলে বলেন, আমি সাধারণত নারীদের সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করি না, কারণ এতে রাজনৈতিক ঝুঁকি থাকে। কিন্তু আজ ব্যতিক্রম করছি—তিনি সত্যিই এক সুন্দরী তরুণী।

ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি অসাধারণ এক নেতা। ইতালিতে তাঁর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা অনেক। তিনি অত্যন্ত সফল রাজনীতিক।

২০২২ সালের অক্টোবরে ক্ষমতায় আসা জর্জিয়া মেলোনি ইতালির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান নির্ধারণে।

রাজনীতিতে মেলোনির পথচলা শুরু হয় ২০০৬ সালে, যখন তিনি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (এএন) দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সর্বকনিষ্ঠ ভাইস-প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান। পরের বছর তিনি সাংবাদিকতাতেও যুক্ত হন। ২০০৮ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে তিনি সিলভিও বার্লুসকোনির সরকারের যুবনীতি মন্ত্রী হন—সংযুক্ত ইতালির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে।

২০০৯ সালে তাঁর দল ফোরজা ইতালিয়ার সঙ্গে একীভূত হয়ে ‘দ্য পিপল অব ফ্রিডম’ (পিডিএল) গঠন করে, যেখানে মেলোনি দলের যুব শাখা ‘ইয়ং ইতালি’র সভাপতিত্ব করেন।

এরপর ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ইগ্নাজিও লা রুসা ও গুইদো ক্রোসেটোর সঙ্গে তিনি নতুন রাজনৈতিক দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই) প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে দলটি বার্লুসকোনির মধ্য-ডান জোটের অংশ হিসেবে অংশ নেয় এবং ২ শতাংশ ভোট পেয়ে ৯টি আসন অর্জন করে। তিনি পুনরায় চেম্বার অফ ডেপুটিজে নির্বাচিত হন ও দলীয় নেতা নিযুক্ত হন।

২০১৪ সালে মেলোনি এফডিআইয়ের সভাপতি হন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে দলটির নেতৃত্ব দেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা বাড়াতে থাকেন। অবশেষে ২০২২ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয় নিয়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন তিনি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন