

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে কমপক্ষে ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) গাজা সিটির দুটি পৃথক স্থানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, হামলার শিকার ব্যক্তিরা নিজেদের ঘরে ফিরছিলেন—যুদ্ধবিরতির সুযোগে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা। কিন্তু এর মাঝেই ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ ঘটনায় দাবি করেছে, তাদের সেনা সদস্যদের দিকে কিছু লোক অগ্রসর হচ্ছিলেন, যাদের তারা সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করে গুলি চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলার সময় কোনো ধরনের হুমকি বা সশস্ত্র উপস্থিতি দেখা যায়নি।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, আহতদের গাজার আল-আহলি এবং আল-নাসের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে ১৩ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির আওতায়, গাজা উপত্যকা থেকে ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে জীবিত অবস্থায় মুক্তি দেয় হামাস। প্রতিউত্তরে ইসরায়েল সরকারও গুরুতর সাজাপ্রাপ্ত ২৫০ জন সহ প্রায় ১,৭০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়। বন্দিমুক্তির এ ঘোষণার পর খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ফেরা বন্দিদের স্বাগত জানানো হয়।
এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাময়িকভাবে শান্তির ইঙ্গিত মিললেও, বাস্তবতা হলো মঙ্গলবারের হামলায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এই ঘটনার জবাবে ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করে, যা চলতে থাকে দীর্ঘ সময়জুড়ে।
ফিলিস্তিনের স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, গত দুই বছরে এই অভিযানে ৬৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে বহু নারী ও শিশু। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে দুই বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করেন। তবে মাটির বাস্তবতায় নতুন করে প্রাণহানির ঘটনায় সেই শান্তি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে উদ্বেগ।
মন্তব্য করুন
