

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য স্বেচ্ছামূলক নৌ-সেবা ফি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণে এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই ফি কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক হতে পারে না এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) সমর্থন প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই এ আলোচনা সামনে এসেছে। প্রণালির বড় অংশের নৌ-সীমা ওমানের নিয়ন্ত্রণে। দেশটি ব্রিটিশ আইনি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। মালাক্কা প্রণালিতে চালু থাকা সহযোগিতামূলক ব্যবস্থার আদলে এ প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
লন্ডনে আইএমওর কাউন্সিল বৈঠকে ওমানের প্রতিনিধি খামিস বিন মোহাম্মদ আল শামাকি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই এ পথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ট্রানজিট ফি আরোপের সুযোগ নেই।
তবে তিনি জানান, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও সহায়তা সেবা উন্নত করতে স্বেচ্ছামূলক সেবামূলক ফি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে ওমানের আইনি বিশেষজ্ঞদের একটি দল তেহরান সফর করবে। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির ওমান সফরের কথাও জানানো হয়েছে।
এ প্রস্তাব নিয়ে ব্রিটেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বাধ্যতামূলক টোল আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ব্রিটিশ সরকারের কিছু সদস্যের মতে, নির্দিষ্ট নৌ-সেবা প্রদানের বিপরীতে ফি নেওয়ার ব্যবস্থা বিশ্বের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চালু রয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ইরান পূর্ববর্তী সমঝোতার শর্ত পূরণ করছে না। ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরানকে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিতে হবে যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং সেখানে আর কোনো হামলা হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে, যদিও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চলবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে নতুন করে সতর্কবার্তাও দেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। কাতারসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এ জলপথের অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
