

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও স্বজনদের কাছে ফিরতে পারছেন না অনেক ফিলিস্তিনি বন্দি। বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় ইসরাইল থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিদের অনেককেই জোর করে নির্বাসনে পাঠানো হচ্ছে, এমনটাই জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে আসে—এই মুক্তির আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে গভীর হতাশা ও বেদনার গল্প।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মুক্তিপ্রাপ্ত কমপক্ষে ১৫৪ জন ফিলিস্তিনিকে ইসরাইল তৃতীয় কোনো দেশে নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও এসব বন্দি গাজা যুদ্ধবিরতির আওতায় ইসরাইলি জিম্মিদের বিনিময়ে মুক্তি পেয়েছেন।
এই ১৫৪ জন সেই বৃহৎ দলের অংশ, যাদের মধ্যে আছে—ইসরাইলি কারাগারে বন্দি ২৫০ জন ফিলিস্তিনি, এবং গত দুই বছরে গাজা থেকে আটক প্রায় ১,৭০০ জন ফিলিস্তিনি, যাদের অনেককে জাতিসংঘের ভাষায় “জোরপূর্বক গুম” করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ২০ জন ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে।
ইসরাইল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি—এই বন্দিদের কোন দেশে পাঠানো হবে। তবে অতীতে, যেমন জানুয়ারি মাসে, কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া এবং তুরস্কে পাঠানো হয়েছিল।
এই নির্বাসনকে আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের পাবলিক পলিসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তামের কারমাউত বলেন: এটি অবশ্যই অবৈধ, কারণ এই বন্দিরা ফিলিস্তিনের নাগরিক।
তারা অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব রাখেন না। তাদের নিজেদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে এমন দেশে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তারা নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে পড়বেন। এটি সম্পূর্ণ অমানবিক।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ বন্দি বিনিময় চুক্তির মৌলিক উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। এটি ইসরাইলের পক্ষ থেকে এক ধরনের দ্বিমুখী নীতি বা ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে মুক্তির নামে বাস্তবে চলছে মানবাধিকার লঙ্ঘন।
মন্তব্য করুন
