

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভেনেজুয়ায় গত সপ্তাহের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহত সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে পৌঁছেছে। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম ও জনবলের অভাবে বহু এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খোঁজ করছেন। ফলে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের আশা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরে মানুষ শাবল, কোদাল ও হাতুড়ি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এরই মধ্যে সোমবার ভোরে দেশটিতে আরও একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। তবে এতে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ ঘটনাকে দেশের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৭১৯ জন।
আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করলেও উদ্ধার অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ সময় ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তবুও অলৌকিকভাবে সোমবার ভোরে ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। এরপর সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাতও অনুভূত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও উদ্ধার অভিযানে তাদের কার্যকর ভূমিকা খুব কম দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
কারাকাসের পশ্চিমে পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানান, সরকারি সহায়তা সীমিত থাকায় স্থানীয় কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবীদের দেওয়া খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই দুর্গত মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।
অবশ্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি জীবন রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নে রঙভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে কোন এলাকাবাসী নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরও তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো জানিয়েছেন, মূল ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি পরাঘাত হয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য মৃতের সংখ্যা বিবেচনায় জাতিসংঘ ১০ হাজার মরদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে। তার আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার আগেই মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
