

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সুইজারল্যান্ডে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে তেহরানের ওপর আরোপিত তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহ চালিয়ে যেতে পারবে।
সোমবার (২২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ৬০ দিনের একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করে এ অনুমোদন দেয়। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
‘জেনারেল লাইসেন্স এক্স’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থার আওতায় ইরানি তেল ও জ্বালানি পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি, সরবরাহ, পরিবহন, বীমা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনও অনুমোদিত থাকবে। লাইসেন্সটি ২১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার অংশ হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা গেছে। ইরানি তেল রপ্তানিতে সাময়িক ছাড় এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।
এদিকে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরছে। সাম্প্রতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত ছিল। তবে নতুন সমঝোতার পর তেলবাহী জাহাজগুলো আবারও প্রণালি ব্যবহার শুরু করেছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি বৃহৎ তেলবাহী ট্যাংকার ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বন্দরের দিকে যাত্রা করেছে। যদিও পরিস্থিতি উন্নতির দিকে, তবুও যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় জাহাজ চলাচলের পরিমাণ এখনও কম রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ৬০ দিনের এই সময়সীমা শুধু জ্বালানি বাজার নয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করতে পারে। আলোচনায় অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ আরও দীর্ঘমেয়াদি রূপ পেতে পারে, আর ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার দিকে যেতে পারে।
