

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে গাজায় যুদ্ধবিরতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘প্রথম ধাপের’ শান্তি উদ্যোগে বৃহস্পতিবার ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস সম্মতি জানিয়েছে।
বহু প্রতীক্ষিত এই ঘোষণায় আনন্দে উচ্ছ্বসিত গাজার মানুষ—যেন নতুনভাবে বেঁচে ওঠার স্বপ্ন দেখছে তারা।
তবে যুদ্ধ থেমে গেলেও গাজার পুনর্গঠন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আল–জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডকে আবার বাসযোগ্য করে তুলতে কমপক্ষে ১৫ বছর সময় লাগতে পারে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইসরাইলের হামলায় গাজার অবকাঠামো কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি স্থাপনা, এমনকি বসতবাড়িও রেহাই পায়নি। প্রায় ৯০ শতাংশ ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব বলছে, পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ।
দোহা–ভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’-এর গাজা বিশেষজ্ঞ আজমি কেশাওয়ি বলেন, “যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন শুধু ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর করে না। ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকা সীমান্ত দিয়ে নির্মাণসামগ্রী প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত করতে হলে আন্তর্জাতিক চাপ অপরিহার্য।”
ট্রাম্পের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হামাস ক্ষমতা ত্যাগ করলে অঞ্চলটিতে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আল–জাজিরার গাজা প্রতিনিধি ইয়াসির আল–বান্নার মতে, “হামাসের প্রশাসনের একটি ইতিবাচক দিক হলো, তারা অন্তত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কিছুটা নিশ্চিত করতে পারে।”
তবে এই সংঘাতে ইসরাইল কেবল বেসামরিক নাগরিকদেরই নয়, গাজার নিরাপত্তা বাহিনীকেও টার্গেট করেছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধী চক্রগুলোকেও মদদ দেওয়া হয়েছে, যারা সীমিত মানবিক সহায়তা আত্মসাৎ করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করেছে।
আজমি কেশাওয়ি সতর্ক করে বলেন, “যুদ্ধ শেষে হামাস ও ফাতাহর মধ্যে দলীয় সংঘাত নতুন করে সহিংসতা উসকে দিতে পারে। এটি গাজার স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।”
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজায় যারা বেঁচে আছেন, তারা ভয়াবহ মানসিক আঘাত বয়ে বেড়াচ্ছেন। পরিবার, বন্ধু ও ঘরবাড়ি হারানোর যন্ত্রণা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগও পাননি অনেকেই।
‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর ২০২২ সালের এক জরিপে দেখা যায়, গাজার প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে চারজনই ভয়, হতাশা ও শোকের মধ্যে দিন কাটায়। আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগ্রাসনের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ (এমএসএফ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই যুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের ওপর এমন এক মানসিক অভিঘাত সৃষ্টি করেছে, যা আধুনিক ইতিহাসে তুলনাহীন। বর্তমানে অন্তত ১৭ হাজার শিশু গাজায় অভিভাবকহীন অবস্থায় আছে। তারা কখনও নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশে ফিরতে পারবে কি না—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা শহরটিকে আবার জীবনের স্পন্দনে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহায়তা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সময়—সবকিছুই একসাথে প্রয়োজন।
সূত্র: আল–জাজিরা
মন্তব্য করুন
