

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে শক্তির ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর পাকিস্তান, তুরস্ক, আজারবাইজান ও চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন ভারতীয় কূটনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সম্প্রতি পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট (SMDA)’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
এর পরপরই কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে ন্যাটোর অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তি তুরস্ক। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন এক বহুপাক্ষিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
পাকিস্তান ও তুরস্কের পাশাপাশি আজারবাইজানও সক্রিয়ভাবে ভারতের বিরোধিতায় অবস্থান নিচ্ছে। এই তিন দেশের কৌশলগত সমন্বয়ের পেছনে শক্তিশালী সহায়তা দিচ্ছে চীন, যা সামরিক ও গোয়েন্দা উভয় ক্ষেত্রে ইসলামাবাদকে সহায়তা করছে বলে জানা গেছে।
তুরস্ক ইতোমধ্যে পাকিস্তানকে উন্নত বায়রাক্তার টিবি-২ ড্রোন সরবরাহ করেছে এবং নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া তিন দেশ একাধিক যৌথ মহড়া পরিচালনা করছে, যা তাদের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর করছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই জোটে চীনের সম্পৃক্ততা ভারতীয় স্বার্থের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। বেইজিং পাকিস্তানকে যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, কামান ও নৌ-সরঞ্জাম সরবরাহ করছে এবং গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
অন্যদিকে, ভারতও পাল্টা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সক্রিয় হয়েছে। গ্রিস, সাইপ্রাস, আর্মেনিয়া ও ইসরায়েলের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে—যাদের সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্কের ঐতিহাসিক বিরোধ রয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিস্তৃত এই নতুন জোট ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে বড় চাপের কারণ হয়ে উঠছে, যা আগামী বছরগুলোতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন